
খুলনার কয়রায় অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা এক মা ও তার শিশুসন্তানের আকুতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নজরে আসার পর তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গীরমহল হাসপাতালে দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইনকে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার বামিয়া শ্রীফলতলা এলাকার হারুন সানার স্ত্রী দুলিপা পারভীন ও তার শিশু সন্তান হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। এতে মা ও শিশুর শারীরিক দুর্বলতা বাড়তে থাকে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি শনিবার রাতে তাকে জানানো হয়। এরপর তাৎক্ষণিক প্রতিনিধি পাঠিয়ে মা ও শিশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রোববার সকালে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম রাজিবের তত্ত্বাবধানে তাদের চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম রাজিব জানান, দুলিপা পারভীন কিছুটা অপুষ্টিজনিত দুর্বলতায় ভুগছেন। তার যৌনাঙ্গের বাইরে একটি ফোঁড়া হয়েছিল, যা বর্তমানে শুকিয়ে গেছে। শারীরিক পুষ্টির জন্য মাল্টিভিটামিন স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শিশুটি ১২ দিন আগে জলবসন্তে আক্রান্ত হয়েছিল। এ কারণে শরীর ও মুখে সাদা দাগ রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে বিশেষ পুষ্টিকর দুধ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনের অবস্থাই স্বাভাবিক রয়েছে।
জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পর ডা. জুবাইদা রহমান মা ও শিশুর চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
চিকিৎসার অভাবে অসহায় মা ও শিশুর আকুতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবারটির মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। চিকিৎসার মাধ্যমে দুলিপা পারভীন ও শিশু হোসাইন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন—এমন প্রত্যাশা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের।