• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা অবশেষে মুখ খুললেন এমপি গাজী নজরুল ভাইরাল ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর জাকির ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বরিশাল “বিভাগীয় বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি” গঠন প্রয়াত সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস জহির উদ্দিন স্বপনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছেন : গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী নৈরাজ্যের রাজনীতির বদলে আমরা কার্যকরী সংসদ তৈরি করেছি : জহির উদ্দিন স্বপন চোর সন্দেহে গ্রামবাসীর ধাওয়া, মালামাল ফেলে পালালেন তারা ইউপি নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের আগে শেষ করতে হবে: ইসি সানাউল্লাহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারিতে অ্যাপ চালু করল সরকার

অনাগত সন্তানের মুখও দেখা হলো না পলাশের

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

মাত্র কয়েক মাসের সংসার। আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা রানী দাস। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল নতুন স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারিয়ে স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পলাশ জলদাস।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের একজন পলাশ জলদাস।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে পলাশের বাড়ি। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে নেমে আসে শোকের ছায়া। বাড়ির আঙিনায় স্বজনদের আহাজারি। ঘরের ভেতর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পলাশের মা। আর নির্বাক হয়ে বসে আছেন আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা।

মাত্র নয় মাস আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল পলাশ ও ভূমিকার। অল্প আয়ের মধ্যেই মা-বাবা, বোন, ছোট ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে সাজিয়েছিলেন ছোট্ট সংসার। সংসারে নতুন অতিথি আসার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তাঁরা।

কিন্তু শুক্রবার সকালেই সবকিছু বদলে গেল। কর্মস্থলে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারালেন পলাশ। স্বামীকে হারিয়ে ভূমিকার কপালের সিঁথি থেকে মুছে গেছে সিঁদুর। অথচ তাঁর গর্ভে বেড়ে উঠছে পলাশের সন্তান, যে সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগেই হারাল বাবাকে।

পলাশের বড় বোন রত্নারানী দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সুখের সংসারটা কী হলো? কে দেখবে আমার ভাইয়ের সংসার? বিয়ে করেছে মাত্র কয়েক মাস। তার মধ্যে স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মা হার্টের রোগী। প্রতি সপ্তাহে অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়। এখন সংসার কীভাবে চলবে?’

বিলাপ করতে করতে পলাশের মা বলেন, ‘আমার ছেলের বদলে যদি আমাকে নিয়ে যেত, তাতেই ভালো হতো।’

পলাশের স্বজনরা জানান, পরিবারের জন্য কাজ করতেন তিনি। স্ত্রীকে নিয়ে ছিল নানা স্বপ্ন। অনাগত সন্তানকে ঘিরেও ছিল পরিবারের আনন্দ। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সবকিছু শেষ করে দিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটির পর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পলাশের পরিবার এখন শোক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। সামনে ভূমিকার সন্তান জন্ম নেবে। কিন্তু সেই সন্তানকে আর কোনোদিন কোলে তুলে নিতে পারবেন না পলাশ। তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি আর অনাগত সন্তানটিই এখন হয়ে থাকবে পরিবারের কাছে তাঁর শেষ চিহ্ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...