
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রমেশ মণ্ডল (২৯) নামে মাদকাসক্ত এক যুবকের দায়ের কোপে সুধা রানী মণ্ডল (৫৮) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পৌর সদরের বাদঘাটা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় উন্মত্ত ওই যুবকের এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে তার মা কমলা রানী মণ্ডল এবং কাকার ছেলে সমীর মণ্ডল গুরুতরভাবে জখম হয়।
রমেশ একই গ্রামের সিদাম চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে। আহত কমলা রানী তার জন্মদাত্রী মা। নিহত সুধা রানী ও আহত সমীর সিদাম মণ্ডলের ভাই মধুসূদন মণ্ডলের স্ত্রী ও ছেলে।
মাদক সেবনের জন্য মায়ের কাছে দাবীকৃত টাকা না পেয়ে রমেশ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে দাবি তার স্ত্রী কন্যাসহ পরিবারের সদস্যদের।
রমেশের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে রিয়া রানী হিয়া জানায় তার বাবা সকাল থেকে ঠাকুমার কাছে টাকা দাবি করছিল। কিন্তু টাকা না দিয়ে জমিতে গিয়ে ধান ক্ষেত দেখাশোনার জন্য বলেন, রমেশের মা কমলা রানী। এসময় রমেশ ধারালো দা দিয়ে নিজের মা’কে ধাওয়া করলে তার ডাক চিৎকারে এগিয়ে গেলে সুধা রানীর গলায় কোপ বসিয়ে দেয় রমেশ। এসময়ে মায়ের রক্ষার্থে এগিয়ে গেলে উন্মত্ত রমেশ তাকেও কোপ দেয়।
রমেশের স্ত্রী রিংকু রানীর ভাষ্য তার স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য প্রায়শ তিনি পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। তিন মাস আগে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে ছিল। আগের রাত থেকেই রমেশ দা নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিল। ভয়ে সারারাত তিনি দুই সন্তানের নিয়ে পৃথক কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। ১০/১২ বছর ধরে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করেছেন-জানিয়ে রিঙ্কু রানী বলেন, মাদকের কারনেই তার পরিবারটি ধ্বংস হয়ে গেছে। নিতান্তই গরীব মানুষ আর বাবার বাড়িতে গিয়ে থাকা খাওয়ার মত ব্যবস্থা নেই বলেই মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করে সংসার করছে।
রমেশ মণ্ডলের কাকার ছেলে সুব্রত মন্ডল জানান, আগে তিনবার মাদকসহ রমেশ গ্রেপ্তার হয়েছিল। মাদকের টাকার জন্য সবসময় বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হতো। সকালে টাকা চেয়ে না পেয়ে নিজের মা’কে কোপ দেয়। পরে পাশের বাড়ির কাকিমা ও কাকাত ভাই এগিয়ে আসলে তারাও হামলার শিকার হয়। তবে ধারালো দায়ের আঘাতে ঘাড়ে গভীর ক্ষত হলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত ডা. শ্যামলী মণ্ডল জানান, দায়ের কোপে সুধা রানী মণ্ডলের ঘাড় থেকে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া, কমলা রানী ও সমীর মণ্ডলের পেট এবং পিঠসহ হাতের আঙ্গুল মারাত্মক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, ঘটনার পর ঘাতক রমেশ ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় বাইরে থেকে প্রতিবেশীরা গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে রমেশকে আটক করেছে।