• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মোবাইল না দেওয়ায় বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে থানায় স্কুল পড়ুয়া ছেলে মরিয়মের মরদেহ বাড়ি নিতে ধার করতে হলো ১৭ হাজার টাকা ভোলার স্পিকারের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ব্যবসায়ীর হাত ভাঙার দাবি অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে তেলের দাম অনেক কম: রিজভী গাজী নজরুলের ৪ ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর চুরির ঘটনায় ঘরজামাই গ্রেপ্তার, উদ্ধার সাড়ে ছয় ভরি স্বর্ণ স্বল্পতম বহর নিয়ে স্বল্পতম সফরে জাতিসংঘের পথে প্রধানমন্ত্রী: মাহদি আমিন বরিশালে সুমন হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে সিআইডির হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন চিকিৎসার অভাবে মা-শিশুর আকুতির ভিডিও ভাইরাল, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডা. জুবাইদা রহমান ফরিদপুরে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বেশি লাভের আশায় হিমাগারে রাখা ২ কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বেশি লাভের আশায় দীর্ঘদিন হিমাগারে সংরক্ষণ করে রাখায় মাদারীপুরে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ৬০ কেজি ওজনের এসব বস্তায় থাকা প্রায় ২২ হাজার ৫০০ মণ আলুর বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব আলু এখন বিনা মূল্যে গরুর খাবার হিসেবে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

হিমাগার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত আলুর মান ঠিক রাখতে সংরক্ষণের মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। তবে বেশি দামের আশায় মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে ২০২৫ সালের মার্চে প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু মজুত করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মীর হাবিবুর রহমান।

কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আলু বাজারজাত করা হয়নি। ফলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেগুলো হিমাগারে পড়ে থাকে। দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের কারণে একপর্যায়ে আলুগুলোর গুণগত মান নষ্ট হয়ে পচন শুরু হয় এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম জানান, বিপুল পরিমাণ পচা আলু খোলা জায়গায় ফেলে দিলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে গত পাঁচ দিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে এসব আলু বিনা মূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। তারা মূলত গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে আলুগুলো নিয়ে যাচ্ছেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ আলু মজুত করে রাখার কারণে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। মাদারীপুর কাঁচামাল আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসুদ তালুকদার বলেন, পচা আলু বিনা মূল্যে বিতরণের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর ফলে আলুর দামও কমে যাচ্ছে। চলতি বছর এমনিতেই আলুর বাজারদর কম, তার ওপর এভাবে বিনা মূল্যে আলু বিতরণ করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

পুরান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী সরোয়ার হোসেন বলেন, আলুগুলো ভালো থাকা অবস্থায় বাজারজাত করা হলে দেশের অন্য জেলা থেকে আলু সংগ্রহের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেত। নষ্ট হওয়া আলুর পরিমাণ এত বেশি যে, তা দিয়ে একটি মৌসুমের বাজার চাহিদার বড় অংশ মেটানো সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে মাদারীপুর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া বলেন, হিমাগারের মালিক ব্যক্তিগত উদ্যোগে আলুগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন। আলু নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। পচা আলু বিনা মূল্যে বিতরণের ফলে খোলাবাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে—এমন তথ্য তার জানা নেই। তার দাবি, জেলার বাজারগুলোতে বর্তমানে আলুর সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...