• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে চবি শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার বাবার স্বপ্ন পূরণে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী এমপি নজরুলের ২য় স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলা: মামা ওবায়দুর কারাগারে গাড়ি চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু, কিশোর চালক গ্রেফতার ইউপি নির্বাচনে বাড়ল জামানত, থাকছে ৪২ প্রতীক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগ, এসআই ক্লোজড হতদরিদ্র দুটি পরিবার পেল বেঁচে থাকার অবলম্বন, প্রশংসায় ভাসছেন মানবিক ইউএনও সুজা প্রেমিকার বাড়ি থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, মা-মেয়ে আটক বরিশাল-ঢাকা রুটে সপ্তাহে ৭ দিন নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবিতে স্মারকলিপি ভুয়া তথ্যে বাংলাদেশে অবস্থান, সন্দেহভাজন ভারতীয়ের রিমান্ড চায় ডিবি

বাবার স্বপ্ন পূরণে ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে: গণপূর্তমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বাবা স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁর এলাকার মানুষ যেন চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে না হয়। সেই স্বপ্ন পূরণে কেটে গেছে প্রায় ২২ বছর। অবশেষে বাবার মৃত্যুর ২২তম বার্ষিকীর দিনে তাঁর নামে নির্মিত ২০ শয্যার হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন ছেলে।

কুমিল্লার বরুড়ার সোনাইমুড়িতে মরহুম এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহের সুমন।

২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার  সকাল ১০টায় বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ি এলাকায় ফিতা কেটে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। প্রয়াত এ কে এম আবু তাহের ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, শিল্পপতি ও সমাজসেবক। তাঁর নামেই হাসপাতালটির নামকরণ করা হয়েছে।

২০২৬ সালে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোনাইমুড়ি ২০ শয্যা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’ করা হয়।

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪০ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনের পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত ) জুনিয়র কনসালটেন্ট জুলকার নাঈম মজুমদার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, প্রায় ২২ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আমার বাবার এই স্বপ্নটা পূরণ করতে। তিনি এই দেশ ও এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে এই হাসপাতাল করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন চিকিৎসাসেবা। মানুষ অসুস্থ হলে সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িঘর, জমিজমা পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়। তখনই তিনি চিন্তা করেছিলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য কী করা যায়। সেই চিন্তা থেকেই এই হাসপাতালের জন্ম।

তিনি আরও বলেন, আমার বাবা এই জমিটা দিয়ে গেছেন। কিন্তু বিগত সরকার এই হাসপাতালের কাজ শেষ করতে দেয়নি। এটা আপনাদের হাসপাতাল, আপনারাই দেখভাল করবেন।

মন্ত্রী বলেন, অবহেলিত এ জনপদের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে নামমাত্র খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটিতে পূর্ণাঙ্গ সেবা কার্যক্রম চালুর কথা জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: রেজা মোহাম্মদ সারোয়ার আকবর, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও)আসাদুজ্জামান রনি ।

বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ কায়সার আলম সেলিম,  সহসভাপতি সৈয়দ রেজাউল হক রেজু ।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, বাড়ির পাশে হাসপাতাল হয়েছে, এটা ভেবেই খুব ভালো লাগছে। ৩৫ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে না। এখন এখানেই কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারব।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফারজানা মাহফুজ বলেন, অল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে বর্তমানে বহির্বিভাগের সেবা কার্যক্রম শুরু করেছি। ইনডোর সেবাসহ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটি চালুর জন্য ইতোমধ্যে কিছু জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও একজন মেডিকেল অফিসারসহ মোট ১০ জন জনবল নিয়োগ পেয়েছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর জন্য আরও জনবল প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২৮টি পদের জনবল চাহিদা রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও সহায়ক কর্মী দ্রুত নিশ্চিত করা হলে হাসপাতালটি বরুড়ার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মরহুম এ কে এম আবু তাহেরের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নামে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। একই সাথে হাসপাতালটি যেন মানুষের কল্যাণে কার্যকর ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই প্রত্যাশা করেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...