• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ‘ডিসেম্বরে আপার ফেরার কোনো সুযোগ নেই, এলে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত’: নাহিদ ইসলাম বাড়ির চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধ, প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত কুয়াকাটায় পর্যটকবাহী ভ্যান উল্টে প্রাণ গেল নারী চিকিৎসকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে ছোট ভাই নিহত এইচএসসির ফল পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময় বাড়ল প্রধানমন্ত্রীর মহাসমাবেশে যোগ দিতে এসে প্রাণ গেল গ্রাম পুলিশ জামশেদের বরিশালে নারীদের গোপন ভিডিও ধারণের অভিযোগে যুবক আটক মধ্যরাতে মহাখালী বাস টার্মিনালে পার্কিং করা বাসে আগুন রেডি হও জামায়াত, তোমাদের পাকিস্তানে পাঠানো হবে: পাপিয়া

এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবর সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

ঠাকুরগাঁওয়ে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ভয়াবহ ফল বিপর্যয় ঘটেছে। জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, এবং সার্বিক পাসের হার মাত্র ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এদিকে, অভাবের সংসারে সংগ্রাম করে পড়াশোনা করা এক কলেজছাত্র ইংরেজিতে অকৃতকার্য হওয়ার খবর সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

শনিবার দুপুরে হরিপুর উপজেলার খোলড়া বালিয়াপুকুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম রাব্বিল হোসেন (১৮)। তিনি ওই গ্রামের রমজান আলীর বড় ছেলে এবং পীরগঞ্জ কলেজের ছাত্র ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা রাব্বিল এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। শনিবার সকালে কোরআন তেলাওয়াত করে এইচএসসি ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। বাবা রমজান আলী মাছ ধরতে যাওয়ার পর রাব্বিল জানতে পারেন যে তিনি কেবল ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এই হতাশা থেকে সবার অগোচরে ঘরের ভেতর গলায় ফাঁস দেন তিনি। তার খালা বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলেও উদ্ধারের আগেই রাব্বিলের মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুতে দিশেহারা বাবা রমজান আলী বলেন, ‘আমার ছেলে পড়াশোনায় কিছুটা অন্যমনস্ক ছিল। তবে এমন চরম সিদ্ধান্ত নেবে, তা কখনো ভাবিনি। পরীক্ষার ফলাফলের হতাশাই আমার বুক খালি করে দিল।’

হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ বলেন, ‘পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এদিকে, ঠাকুরগাঁও জেলায় এবার ৯ হাজার ৮৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৪৩৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৭৮ জন। জেলার যে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নামসর্বস্ব এবং সেখানে মানসম্মত পাঠদানের ঘাটতি রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক রফিকুল হক বলেন, ‘শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই নন-এমপিওভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের ন্যূনতম অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...