• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিদিশা এরশাদের জামিন নামঞ্জুর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

রাজধানীর গুলশান থানার প্রতারণার অভিযোগে দুই বছরের সাজার এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই আদেশ দেন।

বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটির তামাদির সময় মওকুফ করে আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামির কারাবাস পর্যাপ্ত না হওয়ায় আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বিদিশার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

২০০৮ সালের প্রতারণার এক মামলায় বিদিশা এরশাদের ২ বছরের সাজা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়৷ চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি একে. এম মোশাররফ হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী আসামি বিদিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোশাররফ হোসেন মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্দেশ্যে বিদিশা হুসাইনের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

বাদীর অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। বিদিশা বাদীকে জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে মামলায় দাবি করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...