• শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তেজগাঁও কলেজের মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ বদলে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম পরকীয়ার মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা কারাগারে বাউফলে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ বরিশালে রাতের আধাঁরে গৃহবধুকে ধর্ষনের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার আগৈলঝাড়ায় মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ স্বর্ণালংকারসহ প্রবাসীর স্ত্রী নিখোঁজ, সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি হাসপাতালে একজনকে মৃত ঘোষণার পর নারী চিকিৎসকের ওপর হামলা কুড়িগ্রামে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে বৃদ্ধ নিহত, অভিযুক্ত আটক নারীসহ ফ্ল্যাটে সাবেক ওসি, ধরিয়ে দিলেন ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’

বাউফলে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, উপজেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা …. (সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু, আপনারে বাইছা নিছি।’ এভাবেই পটুয়াখালীর বাউফলে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সদস্য ফরিদ উদ্দিন গাজীর (৫০) বিরুদ্ধে।

এই কথোপকথনের ১ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে বাউফল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল।

গোবিন্দের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নে। তিনি ঢাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। পাশাপাশি এলাকায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির খামার এবং মাছের ঘেরের ব্যবসাও রয়েছে।

মূলত আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। তার দাবি, আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন তিনি।

তার অভিযোগ, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদ উদ্দিন গাজী তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন গাজীর বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস গ্রামে। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি নিজে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও তার পছন্দের একজন প্রার্থী রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ফরিদ গাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চেক প্রতারণার একটি মামলায় ফরিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ গাজীকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের অভিযোগের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অডিওতে যা শোনা যায়

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে প্রথমে ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে ‘দাদু’ সম্বোধন করে নিজের পরিচয় দেন ফরিদ উদ্দিন গাজী। এরপর তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার একটা শখ জাগছে, বুঝছেন? আমি একটা জ্যাতা…(সংবেদনশীল শব্দ) পুড়মু (পোড়াব), আপনারে বাইছা নিছি। এ ক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনার কোনো প্রতিক্রিয়া আছে?’

এরপর তিনি বলেন, ‘আপনারে সকালে খুঁইজা আইছিলাম, আপনি মনে হয় স্টেশনে (এলাকা) নাই।’

জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, ‘না, না, নাই।’

এরপর ফরিদ গাজী আবার বলেন, ‘তো আপনার এতে মন্তব্য কী? জ্যাতা নমো পুড়মু, আপনারেই বাইছা নিছি, আপনি কী কন? আপনার সুবিধার জন্য আমার ফোনালাপ রেকর্ড কইরা রাখলে এইটাও রেকর্ড কইরা রাখেন। আপনার মন্তব্য কী এ ক্ষেত্রে?’

জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমার মন্তব্য কী থাকবে, আপনার মনে খুশি ধরছে, আপনি করেন।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদ গাজী জানতে চান, ‘আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে নাগাদ?’

জবাবে ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই যে আসব, আমু তো অবশ্যই। এলাকায় যেহেতু বাড়ি, আসব না? আসব।’

তখন ফরিদ গাজী বলেন, ‘তো খবরটা কী আপনি আমাকে দিবেন, নাকি আমার খবর রাখা লাগবে?’
জবাবে গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আইলে তো মানুষ জানবেই, যেদিন আসব জানবে।’

আগেও হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ফরিদ গাজী তাকে আগেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন। ওই সময় তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে আগের কথোপকথন তিনি রেকর্ড করতে পারেননি।

গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ যে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ কারণে থানায় জিডি করেছি।’

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, ফরিদ উদ্দিন গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতাদের তদন্ত করে প্রতিবেদন ও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ জেলায় পাঠাতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ (ফিরোজ) বলেন, ফরিদ গাজীর বিষয়ে জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হুমকির অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও অডিওটির উৎস সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...