• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

“প্রধানমন্ত্রীরে পাইলে পাও দুইডা ধইরা কইতাম- নদীভাঙন থামান, মোগো বাঁচান’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

“প্রধানমন্ত্রীরে পাইলে পাও দুইডা ধইরা কইতাম- নদীভাঙন থামান, মোগো বাঁচান। বাপ-দাদার জমি সব খুয়াইছি , কবরস্থান খুইয়াছি। এখন বসতভিডাও নদী খাইয়া ফালাইবে। মোরা কোথায় যামু, কার কাছে দুঃখের কথা কইমু?”

কথাগুলো বলছিলেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আজাহার মোল্লা। আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনকবলিত তীরে বসে নিজের জীবনের দীর্ঘ বেদনার গল্প তুলে ধরেন তিনি।

আজাহার মোল্লা জানান, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া প্রায় সব আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমনকি পারিবারিক কবরস্থানও রক্ষা পায়নি। শেষ সম্বল হিসেবে রয়েছে শুধু বসতভিটা। জীবনের শেষ বয়সে সেখানে শান্তিতে থাকার স্বপ্নও এখন নদীভাঙনের হুমকিতে।

শুধু আজাহার মোল্লাই নন, পাশের সিংহেরকাঠী গ্রামের কামাল সরদারও একই দুর্ভোগের শিকার। তিনি জানান, নদীভাঙনের কারণে পাঁচবার বাড়ি সরিয়ে নিতে হয়েছে। এখন নতুন করে বাড়ি সরানোর মতো কোনো জায়গাও আর অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরবর্তী সিংহেরকাঠী, লোহালিয়া ও রফিয়াদি গ্রামের শত শত পরিবার গত কয়েক বছরে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। টানা প্রায় পাঁচ বছরের ভাঙনে তিনটি গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল বলেন, গত প্রায় ১০ বছর ধরে আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে ছোট মীরগঞ্জ হয়ে ময়দানেরহাট রাস্তার মাথা পর্যন্ত তিনটি গ্রাম বিলীনের পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনকে বহুবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েছি। মাঝে মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে কোনো স্থায়ী সুফল মেলেনি। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই।

তিনি আরও জানান, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া অন্তত ১৭টি পরিবার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পুনর্বাসিত হলেও এখনও শত শত পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল (১৩ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে নদীভাঙনকবলিত জনপদের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও বরিশাল সদরসহ নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আড়িয়াল খাঁ, মেঘনা, কীর্তনখোলা ও সন্ধ্যা নদীর তীর রক্ষায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন দক্ষিনাঞ্চলের নদী তীরবর্তী সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...