• বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ অপরাহ্ন

নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তরুণীর জীবন বাঁচানো অমিতকে পুরস্কৃত করলেন এসপি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁতরে উদ্ধার করা পুলিশ কনস্টেবল অমিত হাসানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ তাঁর কার্যালয়ে অমিতের হাতে প্রশংসাপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে পৌর এলাকার শিমরাইল সেতুর কাছে ওই নারী নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, ওই নারী শিমরাইল কান্দি এলাকার প্রথম সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর ঘটনাটি দেখতে পান পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল অমিত হাসান। তিনি তখন এক ব্যাচমেটের সঙ্গে সেখানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি বুঝে কোনো ধরনের দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

পরে একটি নৌকার সহায়তায় তাঁকে নদীর তীরে আনা হয়। এরপর তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত কনস্টেবল মঞ্জুর আলম ফারাবী জানান, নারীটি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর অমিত হাসান দ্রুত পানিতে নেমে তাঁকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১ নম্বর শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক নাছির উদ্দিন হাসপাতালে যান এবং ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ওই নারীর মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে সদর উপজেলার রাধিকা-জগৎসার গ্রামে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। তবে দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায় তিন মাস আগে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাছির উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যার উদ্দেশ্যেই ওই নারী সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। অমিত হাসান তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাত ১২টার দিকে তাঁকে মা ও বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

নারীর জীবন বাঁচাতে অমিত হাসানের সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপন্ন একজনকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় তাঁর এই মানবিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...