
‘দেশটা তলিয়ে যাক, এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক। এ দেশের দরকার নাই’- কথাগুলো কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে একজন মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ। কুমিল্লায় আইফোনের জন্য ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মৃত্যুর পর শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এসেছে এই ক্ষোভ।
অপ্রতিমের বাড়িতে এখন কান্না আর হাহাকার। যে ঘরে একসময় ছিল একমাত্র সন্তানের হাসি, দুষ্টুমি আর ছোটাছুটি, সেই ঘরেই এখন নেমে এসেছে শোকের নিস্তব্ধতা। দেয়ালে টাঙানো ছবিতে হাসছে অপ্রতিম। সেই হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে কখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা, কখনো নির্বাক হয়ে বসে থাকছেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সন্তানের মৃত্যুর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে নাহিদা বেগম বলেন, “আমি ফাঁসি চাই না, দেশটা তলিয়ে যাক, এ দেশটা ধ্বংস হয়ে যাক। এ দেশের দরকার নাই”।
একটি আইফোনের জন্য পরিচিতদের হাতে নিজের ১৩ বছরের সন্তানকে এমন নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হবে- এই বাস্তবতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।
শুক্রবার বিকালে তাকে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে বাধা দেয় অপ্রতিম। এসময় তার সঙ্গে বাকিদের ধস্তাধস্তি হয়।
অপ্রতিম হত্যায় আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “অপ্রতিমকে কৌশলে হত্যা সংঘটিত হওয়ার স্থানে নেওয়া হয়। পরে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। পিটিয়ে ফেলে রাখা হয়। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয়”।
তিনি জানান, মৃত্যু নিশ্চিতের পর অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় তারা। পুলিশের দাবি, পরে তুহিনের কাছ থেকেই অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।