• বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

আজ ১ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা, সুরক্ষা ও কল্যাণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা দেশের প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের কল্যাণ ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৪৫/১০৬ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে প্রতি বছর ১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৮২ সালে বিশ্ব বার্ধক্য সম্মেলনে বার্ধক্যবিষয়ক ভিয়েনা আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৯১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এ বছর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের মূলভাব, ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘতর জীবনের জন্য ব্যবস্থার পুনর্ভাবনা’। দীর্ঘ জীবনকে কীভাবে সুস্থ, উৎপাদনশীল, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়সংগত করা যায়, সেই বিষয়টি এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

বার্ধক্য জীবনের স্বাভাবিক একটি পর্যায়। জীবনের দীর্ঘ সময় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখা প্রবীণদের জীবনের শেষ অধ্যায়টি যাতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সে জন্য তাদের প্রতি পরিবারের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক প্রবীণকে শেষ বয়সে অবহেলা, একাকিত্ব, শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়।

পরিবারের কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গেও প্রবীণদের জীবনে এর প্রভাব পড়েছে। একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে ছোট পরিবার গড়ে ওঠায় অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণ বাবা-মা আগের মতো পারিবারিক সহায়তা পান না। কোথাও সন্তানদের অবহেলার শিকার হন তাঁরা, আবার কোথাও শেষ বয়সে সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

প্রবীণদের সুরক্ষায় বাংলাদেশে আইনগত ব্যবস্থাও রয়েছে। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী, সন্তানদের বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে। পাশাপাশি সরকার বয়স্ক ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রবীণদের সহায়তা দিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ১৯৮০ সালে বিশ্বে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ কোটি। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৭৬ কোটি ১০ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২১ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যায় প্রবীণদের অংশ ১০ শতাংশের কম থেকে প্রায় ১৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন, কর্মসংস্থান, আর্থিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘ জীবন তখনই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে, যখন মানুষ সুস্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ পায়।

তাই আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস তাই শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রবীণদের প্রতি সম্মান, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বয়সের কারণে বৈষম্য ও অবহেলা কমানোর বিষয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ারও একটি উপলক্ষ এই দিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...