
ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজের দুদিন পর ইসমাঈল হোসেন (৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রোকন (১৬) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত রোববার সকালে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ইসমাঈল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা খালের পানিতে একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় তারা বস্তাটি তীরে তুলে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি খুলে ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে ইসমাঈলের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
এদিকে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রোকন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গত রোববার সকালে ৩ হাজার টাকা নিয়ে ইসমাঈলের বাবা আকবর মিয়ার সঙ্গে রোকনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এ সময় রোকন ইসমাঈলের ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে দাবি ওই স্থানীয় বাসিন্দার। এর কিছু সময় পরই শিশু ইসমাঈল নিখোঁজ হয়।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মরদেহ শনাক্তের পর স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্তানকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ইসমাঈলের মা রুমা বেগম।
বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আপাতত এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ হোসেন বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে ভোলা সদরে অবস্থান করছিলাম। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। সেখানে পৌঁছে বিস্তারিত জানানো হবে।’