
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেকে র্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর-কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক স্কুলছাত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পিরোজপুরের কাউখালী ও মোংলা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে বাগেরহাটের মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার পারভেজ খুলনা সদর এলাকার ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কাউখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে কাউখালী ও মোংলা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল এ অভিযান চালায়।
মোংলা থানার ওসি-তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, কাউখালী থানা পুলিশ পারভেজের মোংলায় অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা থানা পুলিশকে জানায়। পরে দুই থানার পুলিশের সমন্বিত অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে কাউখালী থানা পুলিশ তাকে পিরোজপুরে নিয়ে গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পারভেজ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের ছবি ও পরিচয়কে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে নিজেকে র্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর, কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। এভাবে পরিচয় দেওয়ার সূত্র ধরে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সাথে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, পরে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে ওই কিশোরীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও ধর্ষণ করেন পারভেজ। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থান করেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি পারভেজের প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারেন কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে কাউখালী থানায় মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সেই অবস্থান অনুসরণ করে মোংলা পৌর শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পারভেজ একই কৌশল ব্যবহার করে একাধিক নারীর সাথে প্রতারণা করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এই প্রতারণার সাথে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।