
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রতারণায় মামলায় প্রকৃত আসামিকে গ্রেফতার না করে নাম ও বাবার নামে সাদৃশ্য থাকায় মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামের অন্য একজনকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঠানো একটি গ্রেফতারি পরোয়ানার বিপরীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।তবে পরে যাচাই করে জানা যায়, ওই মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ২০ দিন পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বক্কর সিদ্দিক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
ভুক্তভোগী মো. জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর। তিনি পেশায় একজন জেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালে আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের জন্য মহিপুর থানার শিববাড়িয়া এলাকার মো. জলিল হাওলাদারের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পাওনা পরিশোধের জন্য জলিলের দেওয়া একটি চেক ২৭ মার্চ ২০২৩ তারিখে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়।
কারাভোগ করা জলিল হাওলাদারের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার শ্বশুরের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টই নাই। তারপরও তাকে ২০ দিন জেল খাটতে হয়েছে। পুলিশ কেন এ ধরনের ভুল করল। আমরা এর ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। জলিল হাওলাদারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, মামলার প্রকৃত আসামি প্রবাসে থাকেন। পরিচয় যাচাইয়ে ভুলের কারণে জলিলকে এমন একটি মামলায় কারাভোগ করতে হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এ মামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আজ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন। আর মহিপুর থানার ওসিকে আদালতে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মো. শামীম হাওলাদার বলেন, প্রকৃত আসামির নাম, বাবার নাম এবং ঠিকানায় মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মূলত আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানায় মায়ের নাম কিংবা ফোন নম্বর থাকে না। এ কারণে তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই সম্ভব হয়নি। গ্রেফতারের সময় আসামিও বলেনি সে এই মামলার আসামি না। তবে ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিষয়ে আমি অফিসারদের আরো সতর্ক হতে বলব।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ওয়ারেন্টে মায়ের নাম না থাকায় অনিচ্ছাকৃত এ ভুল হয়েছে। ঘটনা জানার পর ওই ব্যক্তির জামিনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আজ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।