• রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে ৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ফেসবুক ব্যবহারে আসছে নতুন নীতিমালা: শিক্ষামন্ত্রী আলোচনা ও সমঝোতায় দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যান জহিরের বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন লুঙ্গির কোচে রাখা ৫ লাখ টাকা দেখে ইসমাইলকে হত্যা, গ্রেফতার ৩ স্থানীয় নির্বাচনে থাকছে না এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ: ইসি সচিব দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট বাগেরহাটে চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৩ মেস থেকে ছাত্রীকে র‍্যাব পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যান জহিরের বিরুদ্ধে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক দাম্পত্য জীবনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ শ্রমিকলীগ নেতার বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন, বঞ্চনা এবং প্রতারণার অভিযোগ করেছেন গৃহবধূ মেহেরুন নেছা সুমি। তিনি অভিযোগ করেছেন, একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপকের সংসার ভেঙে তাকে বিয়ে করেছেন স্বামী বরিশাল ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। দ্বিতীয় বিয়ের পর যৌথ মালিকানার প্রতিষ্ঠান দখল, নির্যাতনসহ স্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মেহেরুন নেছা সুমি। তিনি বলেন, স্বামী এবং তার ভগ্নিপতি এবিএম সাইফুল্লাহ মিলে নির্যাতন এবং দখলদারিত্ব করছেন। একসময় আমি অনেক মেয়েদের সংসার গড়ে দিয়েছি। আজ আমার সংসার ভেঙে গেছে। তাই জহিরুল ও সাইফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান মেহেরুন।

লিখিত বক্তব্যে মেহেরুন নেছা সুমি বলেন, ২০০৭ সালে মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন জহিরুল একটি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। আমাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

সুমির অভিযোগ, জহিরুল চাকরি হারানোর পর ডিডাব্লিউএফ নামে নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে নিজের সঞ্চয়, স্বর্ণালঙ্কার এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করা অর্থ সব কিছু বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সময় ও শ্রম দেন। পরবর্তীতে এর আওতায় একাধিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

সুমির বলেন, ২০১৯ সালে সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে তাকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়। এতে তিনি নিজের আর্থিক স্বাধীনতা হারান এবং স্বামীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে স্বামীর বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তোলেন সুমি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই তাকে অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সুমি।

এক পর্যায়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক তানিয়া নামের এক শিশুকে ঘিরে স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন সুমি। তিনি বলেন, শিশুটি তার কাছে অভিযোগ করার পর বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান এবং শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের পারিবারিক সমঝোতা নয়, বরং আইনসম্মত ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান সুমি।

এ ছাড়া পটুয়াখালীতে জহির মেহেরুন নার্সিং কলেজের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার স্বামীর কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা ও কারাভোগের ঘটনা ঘটে। প্রকৃত ঘটনা কী ছিল এবং মামলা দায়েরের পেছনে কারা জড়িত ছিল, তা তদন্তের দাবি জানান মেহেরুন নেছা।

নিজের মালিকানাধানী রাজধানী নার্সিং সহকারী অধ্যাপক আয়শা আক্তার নামের এক নারীকে ঘিরে স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগও করেন সুমি।

তার দাবি, বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। ওই নারীর সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তার ডিএনএ পরীক্ষার দাবি জানান মেহেরুন নেছা সুমি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামী জহিরুল ইসলাম ও ভগ্নিপতি এ বি এম সাইফুল্লাহ তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন। তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট খুলে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সামাজিক ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ সুমির।

স্বামীর ভগ্নিপতি এ বি এম সাইফুল্লাহর বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে অভিযোগ তুলে মেহেরুন নেছা সুমি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন সাইফুল্লাহ। এসব অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন এই নারী উদ্যোক্তা।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমাকে ডিডাব্লিউএফ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দিয়েছেন স্বামী জহির। প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার পেছনে আমার অর্থ, শ্রম ও সময় থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর কার্যক্রম থেকে আমাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি পারিবারিক বৈঠকে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ করেন স্বামী এবং জহিরুল এবং সাইফুল্লার বিরুদ্ধে।

এসময় সুমি তার ওপর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের তদন্ত, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্ত, নারী শিক্ষার্থী ও কর্মীদের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ যাচাই, তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা তদন্ত এবং প্রতিষ্ঠানে তার আর্থিক ও আইনগত অবদানের বিষয়টি নির্ধারণের দাবি জানান।

একই সঙ্গে তার নামে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত নিয়ন্ত্রকদের চিহ্নিত করা, অডিও রেকর্ড ও অন্যান্য নথি তদন্তের আওতায় আনা, নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো যাচাইয়ের দাবিও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মেহেরুন নেছা সুমি বলেন, “আমি প্রতিশোধ চাই না। কারও সর্বনাশ চাই না। আমি শুধু সত্য চাই, ন্যায়বিচার চাই এবং আমার ও আমার সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের দাবি জানান মেহেরুন নেছা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...