• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং তাদের নিয়োগ ও শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

আইনজীবী আসলাম মিয়া জানান, সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব না পেলে তিনি হাইকোর্টে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রতিকার চাইবেন।

নোটিশে সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, আনুগত্য ও শপথের বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এতে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়সি ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে ৬৬(২)(গ) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা পদে থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।

তবে সংবিধানের ৬৬(২)এ অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তা ত্যাগের পর তার সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির নাগরিকত্বের ইতিহাস ও বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৃতীয় তফসিলে উল্লেখিত পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা করতে হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ড. খলিলুর রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তার ক্ষেত্রে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কিনা, কখনো বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়েছেন কিনা, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা করছেন কিনা এবং কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কিনা-এসব বিষয় যাচাই করতে হবে। বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা কবে ত্যাগ করেছেন, সেই তথ্যও পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

একইভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব, বিদেশি পাসপোর্ট ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ জন্য দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন, জাতীয়তা, নাগরিকত্ব গ্রহণ বা ত্যাগসংক্রান্ত রেকর্ডসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণ সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফশিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবিও জানানো হয়েছে। কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অযোগ্যতা না থাকলে তাদের নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি জানাতে বলা হয়েছে।

নোটিশদাতা আইনজীবী জানিয়েছেন, এটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা সিদ্ধান্ত নয়। নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করাই এ নোটিশের উদ্দেশ্য।

সাত দিনের মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হলে বা সাংবিধানিক প্রশ্ন অনিষ্পন্ন থাকলে সংবিধান ও আইনে বিদ্যমান প্রতিকার পেতে উপযুক্ত সাংবিধানিক বা বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...