• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এবার খুলনায় রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপন সরকার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে, অভিযোগ নাহিদের পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই, ৪ নারী আটক রাজধানীর নতুন বাজারে যাত্রীবাহী বাসে আগুন পাখি শিকারে বাধা দেওয়ায় এয়ারগান দিয়ে যুবককে গুলি নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বরিশালে মাটিকাটা কাটি নিয়ে বাকবিতন্ডা, বড় ছেলের হামলার শিকার মা-বাবা ও ছোট দুই ভাই বরিশালসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস শরীয়তপুরে কলেজের কনসার্টে ‘নৌকা’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান চুরির অভিযোগ তুলে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ

বিষধর সাপের দংশনে মৃত নারীকে জীবিত করতে কবরের পাশে ঝাড়ফুঁক

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিষধর সাপের দংশনে হাসনা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যুর তিন দিন পর তাঁকে ‘জীবিত’ করার চেষ্টা করেছেন এক ওঝা। কবরের একপাশ সামান্য খুঁড়ে গন্ধ শুঁকে ওই ওঝা দাবি করেন, লাশে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে তাঁকে জীবিত করা সম্ভব।

ওঝা গাজী মিয়ার বাড়ি পাশের বাসাইল উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামে। কল্যাণপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, গাজী মিয়া নামে ওই ব্যক্তি ঘুরে ঘুরে খবর নিয়ে এমন নাটকীয়তা তৈরি করেন। এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেন। সখীপুরের বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ গ্রামের ভাতকুড়া এলাকার মৃত হাসনা বেগমকে (৫৮) নিয়েও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

হাসনা বেগমের বাবার নাম মৃত ওয়াজেদ আলী। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ নেই স্বামীর। গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের দংশনের পর স্বজনরা তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওইদিন রাতেই চতলবাইদ গ্রামে তাঁর মেয়ে খালেদার বাড়ির পাশে কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মৃত্যুর তিন দিন পর গত শনিবার বিকেলে সাপের দংশনে মৃত্যুর খবর পেয়ে বাসাইল উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের গাজী মিয়া নামের ওঝা সেখানে আসেন এবং ওই মৃত নারীর কবরের একপাশ খুঁড়ে ভেতরের গন্ধ শুঁকে দাবি করেন, হাসনা বেগম মারা যাননি। এরপর কবরের আশপাশে ঝাড়ফুঁক দেন এবং নানা কলাকৌশল করেন।

ওঝা গাজী মিয়া মৃত হাসনা বেগমের মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার তিনি আবার কবরের পাশে আসবেন। ওইদিন কবরের গন্ধ শুঁকে যদি দুর্গন্ধ না পাওয়া যায়, তাহলে লাশ উত্তোলন করে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে তাঁকে জীবিত করা যাবে। এর মধ্যেই গতকাল রোববার সকালে ফোন করে ওই ওঝা বলেন, রাতে তিনি ‘ধ্যানে বসে’ দেখেন লাশে পচন ধরেছে। তাঁকে জীবিত করা সম্ভব নয়।

গত শনিবার কবরের পাশে ওঝার ঝাড়ফুঁক ও গন্ধ শোঁকার বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। রোববার ফোন করে এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় গোপন রেখে কথা বলার চেষ্টা করলেও ওঝা গাজী মিয়া রাজি হননি। পরে ফোনকল কেটে দেন তিনি।

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন সাংবাদিকদের জানান, এটি একটি অকল্পনীয় বিষয়। একজন মৃত ব্যক্তিকে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেছেন এবং তাঁকে কবরও দেওয়া হয়েছে। এরপর ওই নারী আবার বেঁচে উঠবেন– এমন দাবি হাস্যকর ও অকল্পনীয়। ওই ওঝাকে পুলিশে সোপর্দ করা দরকার।

সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, ওঝার বিরুদ্ধে টাকা-পয়সা নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...