
বরিশালের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির (৫৭) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর প্যারারা রোডে সমকালের বরিশাল কার্যালয়ের দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটসহ পাঁচটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম।
পুলক চ্যাটার্জি (৫৭) স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পুলক চ্যাটার্জি দীর্ঘদিন দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক সমকালে ব্যুরোপ্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি বরিশাল প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
দৈনিক সমকালের বর্তমান অফিসপ্রধান সুমন চৌধুরী বলেন, সমকালের সাবেক বরিশাল ব্যুরোপ্রধান পুলক চ্যাটার্জি তার স্ত্রীর ফোন ধরছিলেন না। বিষয়টি পুলকের স্ত্রী আমাকে (সুমন) জানান। এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি সমকাল অফিসে আসি। তখন অফিসের প্রবেশের দরজা ভেতর থেকে আটকানো দেখতে পাই। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার লাশ উদ্ধার করে।
পুলক চ্যাটার্জি সর্বশেষ দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে সমকাল থেকে চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি ছিলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী ও সাবেক ব্যুরোপ্রধান হিসেবে মাঝেমধ্যেই তিনি সমকাল অফিসে এসে বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন।
সমকালের বর্তমান অফিসপ্রধান সুমন চৌধুরী জানান, সাবেক ব্যুরোপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী হিসেবে পুলক চ্যাটার্জির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে অফিসে ঢোকার একটি চাবি তাকে দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার দিনের কোনো একসময় ওই চাবি দিয়ে অফিসে ঢুকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় দৈনিক সমকালের পিয়ন দীপক অফিসে ছিলেন না। তিনি ছুটিতে ছিলেন। তাই পুরো অফিসে পুলক চ্যাটার্জি ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ উদ্ধার করে। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি বলেন, ‘পুলক চ্যাটার্জির কাছ থেকে একটি সুইসাইড নোটসহ পাঁচটি চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরা চিঠিগুলো পুলক চ্যাটার্জির হাতের লেখা বলে নিশ্চিত করেছেন। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’