• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে পুলিশে দিল ছাত্রদল দলের নী‌তি বিচ্যুতির অভিযোগ তু‌লে এনসিপি নেতার পদত্যাগের ঘোষণা আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: শিবচরে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র, প্রথম পুরস্কার পেল যে নম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ঢামেক চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৃথক স্থান থেকে দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জে নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার খুলনায় তাঁতি দল নেতা হুমায়ুনকে কুপিয়ে হত্যা পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে হত্যা করলেন স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

অমাবস্যার পুণ্যতিথিতে মন্দিরে পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার বাহানায় ডেকে এনে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সি এক তরুণী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন করেছে স্থানীয় পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক ফাঁস করে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে।

নিহত যুবকের নাম রমেশ (২৩)। তিনি তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার সুলাগিনির বাসিন্দা ছিলেন এবং হোসুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে শান্তিপুরমের বাসিন্দা হাসিনীর (১৯) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দম্পতির একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে।

আত্মীয়-স্বজনদের চোখে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক মনে হলেও, তদন্তকারীদের দাবি— বিয়ের পরও হাসিনী তার শৈশবের বন্ধু যুগন্ধরের (২০) সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। একপর্যায়ে রমেশকে তাদের পথ থেকে সরাতে দুজনে মিলে খুনের পরিকল্পনা করে।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্থানীয় গুডুপল্লী মণ্ডলের মাল্লাপ্পা কোন্ডা পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শ্রী মালেশ্বর স্বামী মন্দিরে যাওয়ার জন্য রমেশকে রাজি করায় তার স্ত্রী হাসিনী। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বামী ও কন্যাসন্তানসহ মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে হাসিনী অনবরত তার মোবাইলের মাধ্যমে যুগন্ধরের কাছে নিজেদের ‘লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করতে থাকে, যাতে খুনিরা সহজেই তাদের পিছু নিতে পারে।

তদন্তকারীদের ধারণা, পাহাড়ের ৩ নম্বর হেয়ারপিন বাঁকের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসিনী চলন্ত বাইক থেকে তার হাতব্যাগটি নিচে ফেলে দেয়। ব্যাগটি কুড়িয়ে নিতে রমেশ মোটরসাইকেল থামালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা যুগন্ধর ও তার সহযোগীরা অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রাণভয়ে রমেশ পার্শ্ববর্তী জঙ্গলের দিকে প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। শিশু কন্যার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে রমেশকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই নৃশংস অপরাধের রহস্য উন্মোচিত হয় নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে। হাসিনী এবং তার মেয়ে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় হাসিনীর মা থানায় যোগাযোগ করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ ওই পাহাড়ি রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে।

তাতে দেখা যায়, রমেশ তার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সিসিটিভিতে দেখা যায়, হাসিনী অন্য দুই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে নিহত রমেশের মোটরসাইকেলে চড়ে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

এই দৃশ্য দেখার পর পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। এরপর হাসিনীর মোবাইল কল রেকর্ড, লোকেশনের তথ্য এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ অবশেষে রমেশের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে এবং মূল অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে।

ইতোমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত স্ত্রী হাসিনী, তার প্রেমিক যুগন্ধর এবং খুনে সহায়তা করা অপর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে গ্রামবাসীদের দাবি, রমেশের সঙ্গে যখন হাসিনীর বিয়ে হয়েছিল, তখন হাসিনী নবম শ্রেণির ছাত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামবাসীদের এই দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধক আইনের আওতায় পৃথক মামলা রুজু করা হবে।

সূত্র: এনডিটিভি 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...