
আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দিবো! এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, গতকাল এটিএন নিউজ টকশোতে আমি পুরোটাই গঠনমূলক কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সারোয়ার তুষার শেষ পার্টে এসে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অ্যাটাক করে বলেছে, মিডিয়া দেখলে সবার আগে, আর পুলিশ দেখলে সবার পরে থেকেছি! এটা নাকি তাকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা বলেছে! কোন নেতারা? যারা গণঅভ্যুত্থানের পরপর এনসিপিতে যুক্ত হয়েছে! অথচ আমি ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি, ১৫ দিন রিমান্ডের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। এর প্রেক্ষিতে সে আমাকে বলেছে, জেল তো চুরির মামলায়ও হয়! তার কাছে জেল-জুলুমের কোন মূল্য নাই! অথচ আমি ২০২৪ সাল পর্যন্ত যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে থেকে ভূমিকা রেখেছি।
সে সময় তাকে কখনো রাজপথে দেখি নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আর ২০২৪ এর আন্দোলনে আমি তো ছাত্র না যে নেতৃত্ব দিবো। শেখ হাসিনা মানুষ হত্যা শুরু করলে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় করেছি। এমন কি গণঅভ্যুত্থানের সময় নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনদের জাতিসংঘের বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক আমার মাধ্যমে হয়। ১৮ জুলাই আমিই প্রথম ২ জন সমন্বয়কে ( আসিফ মাহমুদ ও আহনাফ সাঈদ খান) আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান করে মাঝখানে থেকে কাজ শুরু করি। আহনাফ সাঈদ খানের কাছে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করেছি।
পোস্টে ১৯ জুলাই নুরুল হক নুরকে গ্রেপ্তার করার পরে আমার বাসায় ২ বার অভিযান চালায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, এরপর আমি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন সফল করতে রাজনৈতিক কর্মপন্থা নির্ধারণে কাজ করেছি। না কি সেসময় আন্দোলন নিয়ে কাজ না করে এরেস্ট হলে এরা ( নব্য বিপ্লবীরা) খুশি হতো? ভুলে যেয়েন না, সমন্বয়করাও আত্মগোপনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এছাড়া যখন আন্দোলন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো, নতুনভাবে আন্দোলন শুরু করার জন্য ৩১ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও আইনজীবীরা যে হাইকোর্টের সামনে নামলো, সেটাও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমি পরামর্শেরভিত্তিতে ঠিক করেছিলাম। ৩ আগস্ট আমি গ্রেফতার ঝুঁকি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়েছি এবং সমন্বয়কদের সাথে কথা বলেছি, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। তখনও আমাকে গ্রেপ্তার করার জন্য তন্নতন্ন করে খুঁজেছে।
তিনি বলেন, গতকালের টকশোতে সারোয়ার তুষার আমাকে জিজ্ঞেস করেছে প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিলো, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোথায় ছিলো। আমি উত্তর দিয়েছি, তারা নির্বাসিত ছিলো, সেখান থেকে কাজ করেছে। আমি এর প্রেক্ষিতে তাকে প্রশ্ন করেছি, আপনি কোথায় ছিলেন? সে উত্তরে বলেছে, ১৯ জুলাই মাঠে ছিলো। আমি বলেছি, আগে পরে কোথায় ছিলেন, সে উত্তর না দিয়ে আমাকে আক্রমণ করতেই থাকে এবং বেয়াদব ও মিথ্যুক বলে। আমি প্রথমবার তাকে কিছু বলি নাই, কিন্তু ২য় বার আবারও বেয়াদব বলাতে আমি পাল্টা জবাব বলেছি।
পরিশেষে রাশেদ বলেন, আমাকে কেউ ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করবে, আর আমি তাকে চুমু দিবো! এমন সুশীল ব্যক্তি আমি না। আপনারা শব্দের রাজনীতি করতে চান, আবার এতো চেতেন কেন? নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতির কথা বলে ভণ্ডবস্তের রাজনীতির সূচনা করেছেন। এগুলো পরিহার করুন, নতুবা ইতরের সঙ্গে ভদ্রতা দেখানোর রাজনীতি বাংলাদেশের বাস্তবতায় কারও পক্ষে সম্ভবপর হবে না। ভদ্রতা আপনার পক্ষ থেকে আসলে, আমার পক্ষ থেকে আরও বেশি আসবে, ইনশাআল্লাহ।