
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে একই পরিবারের গৃহকর্তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বড়দল গ্রামে এই বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আজহারুল ইসলাম (৫০)। তিনি বড়দল গ্রামের মৃত মজিদ গাজীর ছেলে এবং স্থানীয় বড়দল বাজারের একজন মুদি ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার স্থানীয় একটি বাজার থেকে পটকা মাছ কিনে আনেন আজহারুল ইসলাম। পরে তা বাড়িতে রান্না করে পরিবারের সবাই মিলে খান। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার মধ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয় এবং তীব্র অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন। প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজহারুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আজহারুল ইসলামের স্ত্রী, মা, ছেলে ও মেয়ে- এই চারজন বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়েই আমরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি এবং ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. নীতিশ চন্দ্র গোলদার বলেন, পটকা মাছে টেট্রোডোটক্সিন নামক অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী বিষ থাকে, যা মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রকে অবশ করে ফেলে। এ মাছ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত সচেতন করা হয়। ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং বাজারে বিষাক্ত পটকা মাছ বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।