
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ফোরাম স্থায়ী কমিটি এই বিষয়ে চূড়ান্ত ক্ষমতা অর্পণ করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তিনিই দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কে হবেন, সে বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কথা জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনে সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন ও সংসদীয় প্রতিনিধিদের এই উচ্চপর্যায় বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছ রাখতে মিডিয়া ও গণমাধ্যমের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং স্পিকারের ভোটদানসহ পুরো প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে চিফ হুইপ স্পষ্ট করে জানান, সব সংসদ সদস্য নিজ নিজ নির্ধারিত আসন নম্বর অনুযায়ী সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট দেবেন। দলীয় শৃঙ্খলার কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। যদি কোনো আইনপ্রণেতা দলীয় নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুকদের আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এরপর ১৬ আগস্ট জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট। সবশেষে আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।