• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সাবেক মন্ত্রী দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ আর নেই মোহনগঞ্জে বারবার ধর্ম বদল করা যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা ছেলেধরা সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা বরগুনায় নারীকে লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আদালতের রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব : মির্জা ফখরুল বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে ফ্রি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বরিশালে ঠিকাদারি কাজ নিয়ে বিরোধে গণপূর্ত নির্বাহী প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত ‘কিস্তির চাপে’ বিষপানে ছেলের মৃত্যু, সেই শোকে মারা গেলেন বাবাও বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সোয়াল সবাই এগিয়ে এলে অনেক বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

মোহনগঞ্জে বারবার ধর্ম বদল করা যুবকের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

মুসলিম সেজে এক মুসলিম তরুণীকে প্রথমে বিয়ে করেন অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা ধর (৩০) নামে এক হিন্দু যুবক। এফিডেভিট করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী নাম রাখেন হীরা মিয়া। আট বছর পর দুই সন্তান রেখে ফের হিন্দু হয়ে আরেক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি । এর ফলে মুসলিম তরুণী তার দুই সন্তানের বাবার পরিচয় নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় অর্জুন ধর হীরার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা করেছেন তার প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম (২৭)। মামলায় অর্জুন ধরের মা কৃষ্ণা রানী ঘোষকেও (৫৮) আসামি করা হয়েছে।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন শুভ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২০ জুলাই নেত্রকোনা সদর আমলি আদালতে এ মামলা করেন শিপুল খানম।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোনা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। দ্রুতই তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের মৃত জয় কৃষ্ণধরের ছেলে। আর ভুক্তভোগী দুই তরুণী মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী, মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অর্জুন ধর হীরা এক সময় মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুরে বসবাস করতেন। তখন একই এলাকার শিপুল আক্তার নামে ওই মুসলিম তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন অর্জুন ধর হীরা। পরে ২০১৪ সালে আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম মো. হীরা মিয়া রাখেন। এরপর ওই মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১৫ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম হয়। মুসলিম নামানুসারে নাম রাখা হয় জান্নাতুল হিয়া। পরে ২০২২ সালে আরও একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ। তখন মুসলিম পরিচয় ধারণ করেই নামাজ রোজাও পালন করেছেন হীরা। অনেক বলার পরও নানান কারণ দেখিয়ে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি হীরা। কিন্তু ২০২২ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরপরই তার মা কৃষ্ণা রানীর প্ররোচনায় ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার এক হিন্দু মেয়েকে গোপনে বিয়ে করেন অর্জুন ধর হীরা। কিছুদিন পর বিষয়টি টের পেয়ে জানতে চাইলে হীরা তাকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও মারধরসহ নানা অত্যাচার করতে শুরু করেন। হীরা প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ফের হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে আরেক হিন্দু তরুণীকে বিয়ের বিষয় জানার পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন শিপুল। পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে ২০২৫ সালের ২০ মে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। পরে উভয়পক্ষের সম্মতিতে ২০২৫ সালের ৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি আপসনামা ও এফিডেভিট সম্পাদন করা হয়। এতে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন, জমি কিনে বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন শর্ত ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এফিডেভিট সম্পাদনের পরও তার স্বামী কোনো শর্ত পূরণ করেননি। এমনকি কোনো শর্তই পূরণ করবেন না বলে জানিয়ে দেন হীরা। এ সময় তার শাশুড়ি কৃষ্ণা রানী ঘোষও তাকে ‘যা পারিস কর’ বলে- অভিযোগ করেন বাদী।

শিপুল খানম বলেন,, স্বামী ও শাশুড়ি পরস্পর যোগসাজশ ও প্ররোচনায় তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন। আমার সন্তানদের বাবার পরিচয় নিয়ে খুবই শঙ্কিত আছি। সমাজে কী পরিচয়ে তারা বড় হবে। তাদের ভবিষ্যত কী হবে আল্লাহই জানেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্জুন ধর হীরা বলেন, অনেক আগেই আমি শিপুলকে ডিভোর্স দিয়েছি। তারপর আমি কী করব এটা তার জানার বিষয় নয়। এই বলে সংযোগ কেটে দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...