• শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন

মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধনে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

আনন্দময়ী দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ বা ‘বোধন’-এর মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী তিথিতে শুরু হলো সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। আগামী বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে অশ্রুসজল নয়নে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এই বর্ণাঢ্য পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে শনি ও রোববার (১৭ ও ১৮ অক্টোবর) দুই দিনব্যাপী ‘মহাসপ্তমী’ তিথি থাকায় পরদিন থেকেই পুরোদমে শুরু হবে পূজার মূল শাস্ত্রীয় পর্ব।

পঞ্জিকামতে, জগতের সামগ্রিক মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়ায়) চড়ে মর্ত্যলোকে আগমন করেছেন, যার ফল ছত্রভঙ্গ বা সামাজিক অস্থিরতা বলে মনে করা হয়। অপরদিকে পূজা শেষে দেবী মর্ত্যলোক ত্যাগ করে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন নৌকায় চেপে, যার শাস্ত্রীয় ফল শস্যবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, মহাসপ্তমীতে দেবীর রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি বিশেষ উদ্ভিদ স্নান করিয়ে ‘নবপত্রিকা’ প্রবেশ ও স্থাপন করা হবে। আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) উদযাপিত হবে মহাঅষ্টমী, যার মূল আকর্ষণ অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত ‘সন্ধিপূজা’। মঙ্গলবার ‘মহানবমী’তে বিশেষ হোম-যজ্ঞ ও ভোগ নিবেদন শেষে বুধবার দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানাবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে সরকারি চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন। এই দীর্ঘ ছুটির কারণে রাজধানী ছেড়ে বাড়ি ফেরা ও উৎসব ঘিরে জনপদে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে ঢাকাসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে শেষ মুহূর্তের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমা স্থাপন, মণ্ডপ সজ্জা, দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জার কাজ শেষ করে এখন সর্বত্র ঢাক-ঢোল, কাঁসা ও শঙ্খের ধ্বনিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা তাঁর সন্তানদের সকল ভয়, দুঃখ, শোক, বালা-মুসিবত ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে এবং সত্য ও ন্যায়ের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর শরৎকালে মর্ত্যে আবির্ভূত হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে লঙ্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে রাজা রামচন্দ্র শরৎকালে শক্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহামায়ার অকালবোধন ও পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই যুগ যুগ ধরে শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করে আসছেন।

উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মণ্ডপগুলোতে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। মণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ছাড়াও বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েন রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...