• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন

দুদকের সংবাদ সম্মেলনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফের রিট

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা সংবাদ সম্মেলনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আসিফ মাহমুদের পক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রিটটি করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। এতে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার স্বীকৃত নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলমান কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত নিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক এবং জনসংযোগ কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, দুদকের উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্তের পর ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানানো হয়।

তিনি বলেন, এটি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষা এবং তথ্য প্রকাশ নীতিমালার লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হয়েছে। ফলে তিনি গণমাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন, এতে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইনজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, রিট আবেদনটির ওপর আগামীকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক জানান, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে দুদক ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ অনুসন্ধান শেষে ফলাফল হিসেবে ধরা হতে পারে, অনুসন্ধানের শুরুতে এমন বক্তব্য দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার নেই।

আবেদনে বলা হয়, পরে ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব গণমাধ্যমের প্রশ্নে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বা মুখ ফসকে বের হয়ে যাওয়া বলে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। কিন্তু এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়নি।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও, তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ নতুন অভিযোগ আনা হয়।

রিট আবেদনে আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের যে বিষয়টি আনা হয়েছে, তা মূলত প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশে হয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার যে পদোন্নতির কথা বলা হয়েছে, তা তিনি পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর, ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে, ২০২৬ সাল) কার্যকর হয়। ফলে, এতে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব।

রিটে আরো অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে তিনি প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনার উদ্দেশ্যে এমন ব্রিফিং করা হয়েছে, যা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা মৌলিক অধিকার এবং ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর পরিপন্থি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...