• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
এই নারী আমার স্ত্রী নন, জামায়াত নেতার সাবেক বউ: গোলাম মাওলা রনি মিরপুরে ২০ টি ককটেলসহ সাবেক নিষিদ্ধ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে পড়ে যাওয়া ফুটবল তুলতে নেমে স্রোতে ভেসে গেল এক কিশোর নতুন কুঁড়ি সিজন-১ প্রতিযোগিতায় দেশ সেরা কাবাডি খেলোয়াড় মীর সাফি বজ্রপাতে নিহত ছয় কবর ঘিরে রহস্যময় আতঙ্ক, রাত জেগে পাহারায় স্বজনরা ভাগ্নিকে ধর্ষণের অভিযোগে মামা গ্রেফতার সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, যুবদল নেতা রিমান্ডে রাজধানীর দুই স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, মোহাম্মদপুরে ট্রাকে আগুন ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারনামা পিরোজপুরে জেলায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নতুন জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রব

গাইবান্ধার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে চার দিনের রিমান্ড

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কেএম রাকিবুল হুদা। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন।

তার পক্ষে এক আইনজীবী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটা লাইন অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটা মন্দির বানিয়েছেন, সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।

বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’ আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক।’ পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি-না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘জ্বি’।

এ সময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হলে জেলগেটে করা যেতে পারে, রিমান্ডে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরবর্তীতে বিচারক শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামির নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। এসব অর্থের উৎস, কারা অর্থ জমা দিয়েছেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় তিনি জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরণী দাসের ছেলে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা করেছেন। অনুসন্ধানে তার নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব লেনদেন মানিলন্ডারিং-সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত শ্রী হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা ‘দেশি বিদেশি মুদ্রা পাচার করতো’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলদ্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ। ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...