
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, একটি ছোট ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে তা থেকে প্রায় দুই লাখ ইলিশের জন্ম হওয়া সম্ভব। আর বড় ইলিশ থেকে ২০ লাখেরও বেশি ডিম পাওয়া যায়। তাই আমাদের সম্পদ আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।
‘আমিষেই শক্তি, আমিষেই মুক্তি’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশালের উজিরপুরে মৎস্যজীবী গ্রাম সংগঠনের সদস্যদের সাথে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব দেলোয়ার হোসেন ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অভিযানের এ ২২ দিন আপনাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ সময়টুকু নদীতে জাল না ফেললে পরবর্তী সময়ে এ ইলিশ আপনারাই ধরবেন এবং লাভবান হবেন। তাই মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের পাশাপাশি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাসহ সর্বস্তরের জনগণকে সহযোগিতা করতে হবে।
সচিব মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের পুষ্টিচাহিদা পূরণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মৎস্যজীবী গ্রাম সংগঠনের সদস্যদের সকল সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন।
উজিরপুর উপজেলার রসুলাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরন করেন। বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে ও উজিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক মো. কামরুল হাসান, উপ-পরিচালক
মো. মহসীন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউ জামান, উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী সুজা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার প্রদীপ কুমার সরকার, উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় মৎস্যজীবী গ্রাম সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দেশের পুষ্টিচাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্যজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।