• মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম

সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ও হয়রানির অভিযোগে বিধবা নারীর সংবাদ সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি দখল এবং ভাড়াটিয়াদের দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ করেছেন চয়ন মুক্তি সীমা নামে এক নারী। এ ঘটনায় তিনি নিজের ছোট ভাই জয় রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি, সম্পত্তি এককভাবে দখলের চেষ্টা এবং ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন চয়ন মুক্তি সীমা।
লিখিত বক্তব্যে চয়ন মুক্তি সীমা জানান, তিনি একজন বিধবা নারী এবং একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার বাবা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজীপুর রহমান ভাণ্ডারী ২০১০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবার দুই সংসার ছিল। প্রথম সংসারে তারা দুই ভাই ও এক বোন। বড় ভাই ড. আরিফুর রহমান, তিনি নিজে এবং ছোট ভাই জয় রহমান।

তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ জমি ও সাড়ে তিনতলা ভবনের মালিক হন তারা। পরবর্তীতে ভবনটি ভাগ করা হয়। বড় ভাই ড. আরিফুর রহমানের অংশে ভবনের ছাদ ও নিচতলার তিনটি কক্ষ, তার নিজের অংশে দ্বিতীয় তলা এবং ছোট ভাই জয় রহমানের অংশে তৃতীয় তলা ও নিচতলার দুটি কক্ষ পড়ে।

চয়ন মুক্তি সীমার অভিযোগ, তাদের মা মাসুমা বেগম তার অংশের সম্পত্তি তার কাছে বিক্রি করে দেন। বড় ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দুই ভাই-বোনের মধ্যে শালিসের মাধ্যমে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি আপস-বণ্টননামা চুক্তি হয়। তবে ওই চুক্তিতে বড় ভাই দেশে ফিরে বিষয়টি না মানলে চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে—এমন শর্ত ছিল বলেও জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ছোট ভাই জয় রহমান ২০২৪ সালের ২২ এপ্রিল বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর বাবার সম্পত্তি এককভাবে দখলের চেষ্টা শুরু করেন। একই বছরের ৪ মে সম্পত্তি এককভাবে দখল করে নেওয়ার জন্য তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

চয়ন মুক্তি সীমার দাবি, বর্তমানে তার ছোট ভাইয়ের ভাড়াটিয়ারা তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। তাদের মধ্যে ফারদিন খান নূর (২২), তুহিন (৫৫), খুশরু (১৯), রাশিদা (৪২) এবং হাবু-বাবুসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জন রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে ওই ভাড়াটিয়ারা তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেন। পরদিন সকালে বাসায় এসে তাকে ও তার মেয়েকে গলা চেপে ধরে মারধর করেন। এ সময় বাসায় থাকা চারটি সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়। পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে চয়ন মুক্তি সীমা আরও অভিযোগ করেন, এসব ভাড়াটিয়া প্রায় এক বছর ধরে বাসা ভাড়া ও পানির বিল পরিশোধ করছেন না। বর্তমানে তার ছোট ভাই জয় রহমান ও তার সঙ্গে থাকা ভাড়াটিয়ারা জমি ও বাড়ির বিভিন্ন অংশ দখল করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, “আমি একজন বিধবা নারী। একটি মেয়েকে নিয়ে বেঁচে আছি। এখন আমার থাকার জায়গাটুকুও নিরাপদ নয়। প্রতিদিন কী খাব, সেটি ভাবার পাশাপাশি যেখানে আমার নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ নিয়ে আমি শঙ্কিত।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার ও মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ন্যায়সংগত সমাধান এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...