• সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাবির জগন্নাথ হল থেকে থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে পুলিশে দিল ছাত্রদল দলের নী‌তি বিচ্যুতির অভিযোগ তু‌লে এনসিপি নেতার পদত্যাগের ঘোষণা আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: শিবচরে অব্যাহতি পাওয়া জামায়াত নেতার বসতঘর ভাঙচুর ১০০ টাকার প্রাইজবন্ডের ড্র, প্রথম পুরস্কার পেল যে নম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা ঢামেক চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৃথক স্থান থেকে দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জে নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই জনকে গ্রেপ্তার খুলনায় তাঁতি দল নেতা হুমায়ুনকে কুপিয়ে হত্যা পোশাক কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা

মিথ্যা বললে শরীরে যেসব ক্ষতি হয়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

মিথ্যা বলা কেবল কোনো সাধারণ নৈতিক বা সামাজিক বিষয়ই নয়, বরং এটি আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ কথোপকথনের সময় একটি বড় অংশের মানুষই ছোটোখাটো মিথ্যা বলে থাকেন। দৈনন্দিন জীবনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া বা কাউকে ছোট না করার মতো সাধারণ কারণে মিথ্যা বলা হলেও, এই অভ্যাসটি মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি করে। সত্য কথা লুকিয়ে একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করতে এবং পরবর্তী সময়ে সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি সামাল দিতে মস্তিষ্ককে একসঙ্গে বহুবিধ তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়। এর ফলে মস্তিষ্কের আবেগ, ভয় ও হুমকি শনাক্ত করার সঙ্গে জড়িত ‘অ্যামিগডালা’ ও ‘লিম্বিক সিস্টেম’ অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এই মানসিক অস্বস্তি ও লুকোচুরির কারণে শরীরের ভেতরে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর পড়া চাপ অন্যতম। মিথ্যা বলার সময় ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় বা অপরাধবোধ কাজ করলে শরীরের ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো সাময়িক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এই ধরনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বজায় থাকলে তা থেকে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌যন্ত্রের মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্রের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ বা দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস’ নামে পরিচিত, তার মাধ্যমে পেটের ওপরও মিথ্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানসিক অস্থিরতা বা চাপের কারণে অনেকেরই পেটে মোচড় দেওয়া, বমি বমি ভাব কিংবা তীব্র অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ, মনের ভেতরকার লুকোচুরি ও টেনশন অনেক সময় পেটের অসুস্থতা হিসেবেও প্রকাশ পায়।

স্নায়ুবিজ্ঞানীদের গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, নিয়মিত মিথ্যা বলতে থাকলে প্রথম দিকে যে অপরাধবোধ বা অস্বস্তি কাজ করে, তা ধীরে ধীরে কমে আসে। ছোট ছোট মিথ্যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এই মানসিক প্রবণতা পরবর্তীতে বড় ধরনের অসততার পথকেও সহজ করে তুলতে পারে। তাই মন ও শরীর উভয়কে সুস্থ ও চাপমুক্ত রাখতে অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে সরাসরি মিথ্যা আশ্রয় না নিয়ে কৌশলে সত্য প্রকাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী কোনো মানসিক বা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...