
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কটূক্তি করে ফেসবুকে ফটোকার্ড পোস্ট করার অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা এক স্কুল শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ করেছেন তারা। যদিও ওই ধরনের পোস্ট তার ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এই শিক্ষকের নাম নারায়ণ চন্দ্র (৫০)। তিনি ওই স্কুলের ধর্মের শিক্ষক। এই স্কুলে ২৫ বছর বয়স থেকে শিক্ষকতা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নারায়ণ চন্দ্র তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসলাম ধর্ম ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ড পোস্ট করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁরা বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই শিক্ষকের খোঁজ করেন।
পরে নারায়ণ চন্দ্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা তাঁকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ওই ফটোকার্ডে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা হয়। এতে মাদ্রাসাকে নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্যও ছিল। ফটোকার্ডটির নিচে ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণ চন্দ্র যে ছবি পোস্ট করেছেন তাতে লেখা আছে, ‘‘জ্ঞানই গুরু গুরুই জ্ঞান, বিদ্যাধন দানে বাড়ে, বলে গেছেন মহাজনে। সদাই বিদ্যাজ্ঞান, দান করো অকৃপন জ্ঞানে অজ্ঞতা খন্ডে দানে খন্ড পাপ।সার্বজনীন দর্শনে জ্ঞানই পরম সত্তা। নাস্তিক যদি অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে সত্য ও জ্ঞানের সাধনা করে তবে তিনি সত্যেরই সাধনা করেন।কারন সত্যই ধর্ম,আর মিথ্যাই পাপ। তবে যে জ্ঞান ফেতনার সৃষ্টি করে সে জ্ঞান নয়।’’
ভাটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবিয়া খাতুন বলেন, এর আগেও নারায়ণ চন্দ্র ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট করেন। স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে তাঁকে বিষয়টি বুঝিয়ে এ ধরনের পোস্ট না করার জন্য বলা হয়। এরপরও তিনি আবার পোস্ট করেছেন। স্থানীয়রা তাঁকে অবরুদ্ধ করে ফেললে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়। মাদ্রাসা নিয়ে কোনো পোস্টের কথা বলতে পারেননি তিনি।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের দাবির কারণে শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। মামলাও দায়ের হয়নি। শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।