
মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকার স্থলে ভুলক্রমে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস। এঘটনায় ডিজিএমসহ চারজনকে শোকজ করা হয়েছে।
অস্বাভাবিক এ বিল দেখে হতবাক হন গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে টনক নড়ে অফিসের কর্মকর্তাদের। পরে দ্রুত সংশোধিত বিল তৈরি করা হলে মঙ্গলবার গ্রাহক তা ব্যাংকে পরিশোধ করেন। তবে এ ভুলের জন্য ডিজিএমসহ চারজনকে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এ বিল ইস্যু করা হয়। বিল অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০।
সে হিসেবে গত মাসে ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। কিন্তু ২৩৫ ইউনিটের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক চার্জের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা। সব মিলিয়ে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। আবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ তা বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল আসার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।
এ বিষয়ে গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, ‘এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।’
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। বিলটি পরে সংশোধন করা হয়েছে । মঙ্গলবার গ্রাহক বিলটি পরিশোধও করেছেন।’
মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বিল তৈরির ক্ষেত্রে এমন বড় ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।