• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ছিনতাই ও চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতা আটক সন্তান প্রসবের খরচ জোগাতে না পেরে নবজাতক রেখে যুবকের আত্মহত্যা একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের আবেদন শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর বরগুনায় মাদকসেবনের দায়ে কারাগারে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কনস্টেবল বরিশাল কোর্টের মহুরি হত্যা মামলার পলাতক আসামি নাসিমা বেগম ঢাকায় গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সন্ধ্যায় এনসিপির বিক্ষোভ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, জড়িত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে ঢালাই কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাসভাড়া বাড়াতে চায় মালিক সমিতি

বরগুনায় মাদকসেবনের দায়ে কারাগারে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কনস্টেবল

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

বরগুনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কনস্টেবলকে মাদকসেবনের দায়ে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল হোসেন বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকার হামিদ মৃধার ছেলে। তিনি বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরগুনার বেতাগী উপজেলার চান্দখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন সোমবার সকালে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার ডোপ টেস্ট করা হলে শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরে তাকে বরগুনার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অধিদফতর সূত্র জানায়, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের সাথে যোগাযোগ ও মাদক সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। বরগুনায় মাদক সরবরাহের সাথে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর বেশ কিছুদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে অধিদফতর।

সূত্রের ভাষ্য, রবিবার রুবেল ঢাকা থেকে ইয়াবার বড় একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন- এমন তথ্য পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এরপর বেতাগীর চান্দখালী বাজারের কিছুটা সামনে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে রুবেলকে থামানোর চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান।

পরে পেছন দিক দিয়ে বের হয়ে পালানোর সময় তাকে ধাওয়া করে আটক করেন অধিদফতরের সদস্যরা। তবে আটকের সময় তার সাথে থাকা একটি ছোট ব্যাগ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যাগে মাদক ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল নিজের ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

এরপর সোমবার সকালে তাকে বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ডোপ পরীক্ষায় তার শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর দুপুরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় চার বছর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়ার পর বরিশাল ও বরগুনায় রুবেল ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে উঠেছে। তাদের অভিযোগ, চার বছরে রুবেল ও তার পরিবার প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব সম্পদের উৎস ও মালিকানার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বরগুনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক হামিমুর রশিদ বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, রুবেল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সাথে যুক্ত। যাচাই-বাছাই করে আমরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হই। রবিবারও তথ্য ছিল, তিনি ঢাকা থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে বরগুনায় আসছেন। এ কারণে আমরা চেকপোস্ট বসাই।

তিনি বলেন, রুবেলকে একটি ছোট ব্যাগসহ আটকের চেষ্টা করা হলে তিনি একটি সরু গলি দিয়ে পালিয়ে যান। পরে পেছন দিক থেকে বের হয়ে পালানোর সময় ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। তবে তার কাছে ব্যাগটি পাওয়া যায়নি এবং জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি ব্যাগটির বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। তিনি ইয়াবা সেবনের কথা স্বীকার করেছেন। পরে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।

হামিমুর রশিদ আরও জানান, রুবেল হোসেনের মামলার বিষয়টি ইতিমধ্যে অধিদফতরকে জানানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী অধিদফতর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...