
বরগুনা পৌর মাছ বাজারে মাছ চুরির অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারধরের ভিডিও আদালতের নজরে আসার পর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান স্বপ্রণোদিত হয়ে সদর থানাকে এ নির্দেশ দেন।
মারধরের শিকার নারী মোসা. জানু বেগম বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের মাইঠা গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত মাছ ব্যবসায়ী মো. ছালামও একই গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গত রবিবার বরগুনা পৌর মাছ বাজারে মাছ চুরির অভিযোগে জানু বেগমকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন ছালাম। পরে ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পৌর মাছ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রফিক সওদাগরের দোকানের একটি চেয়ারে বসেছিলেন জানু বেগম। এ সময় মাছ ব্যবসায়ী ছালাম সেখানে এসে একটি লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ছালামকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
সালিসে অভিযুক্ত ছালাম ওই নারীর পা ধরে ক্ষমা চান এবং তার চিকিৎসার জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মারধরের ভিডিও আদালতের নজরে আসার পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান।
অভিযুক্ত মো. ছালাম বলেন, ‘আমার দোকান থেকে মাছ চুরি করছিল। তাই আমি তাকে মেরেছিলাম। তবে এরকম কাজ করা আমার উচিত হয়নি। বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ‘বরগুনা মাছ বাজারে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে মারধরের ঘটনায় আদালত আমাদের একটি নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’