• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু সোমবার, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় প্রচারণার নির্দেশ দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ: আইজিপি পিরোজপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টা, আয়াসসহ ৪ জন রিমান্ডে হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে ফেসবুকে পরিচয় থেকে বিয়ে, পাকিস্তানি যুবক এখন কুষ্টিয়ায় নেপালে ফের আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে খুন, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিলেন স্বামী সকালে নিখোঁজ, রাতে প্রতিবেশীর ঘর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

ফেসবুকে পরিচয় থেকে বিয়ে, পাকিস্তানি যুবক এখন কুষ্টিয়ায়

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

ফেসবুকে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার লাবনী ও পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাসিন্দা ফারহান। পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের পর পাকিস্তানে প্রায় ছয় মাস সংসার করেছেন তারা। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছেন ফারহান। ভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির এই দম্পতিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা লাবনীর সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ফারহানের। শুরুতে সাধারণ কথাবার্তা ও বন্ধুত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের যোগাযোগ। নিয়মিত কথা বলতে বলতে একসময় ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। নিজেদের ভালো লাগা-মন্দ লাগা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্ক।

তবে পরিচয়ের শুরুর দিকে একটি ঘটনা ঘটে, যা পরে তাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। লাবনী তখন একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করতেন। ওই আইডিতে নিজের ছবি না দিয়ে অন্য এক তরুণীর ছবি দিয়েছিলেন তিনি। ফারহান তার ছবি চাইলে ভুল করে সেই তরুণীর ছবিই পাঠিয়ে দেন লাবনী।

পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় বিষয়টি সামনে আসে। ফারহান জানতে পারেন, ফেসবুকে দেখা ছবিটি লাবনীর নিজের নয়। এতে পরিচয়ের শুরুতে তৈরি হওয়া ভুল ধারণা দূর হয়। তবে এ ঘটনার পরও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। বরং নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার সুযোগ পান তারা। ধীরে ধীরে তৈরি হয় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বিশ্বাস।

একপর্যায়ে লাবনীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ফারহান। অনলাইনে শুরু হওয়া সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দুজন। বিষয়টি নিজ নিজ পরিবারকে জানালে পরিবারের সদস্যরাও সম্মতি দেন। পরে দুই পরিবারের আলোচনার মধ্য দিয়ে বিয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

লাবনী ও ফারহানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে অনলাইনে তাদের বিয়ে হয়। এরপর ফারহান লাবনীকে পাকিস্তানে নিয়ে গেলে দেশটির আইন অনুযায়ীও তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এভাবেই অনলাইনে শুরু হওয়া সম্পর্ক পরিণতি পায় দাম্পত্য জীবনে।

বিয়ের পর পাকিস্তানে প্রায় ছয় মাস একসঙ্গে সংসার করেন তারা। নতুন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা হয় লাবনীর। অন্যদিকে, বাংলাদেশি স্ত্রীকে নিয়ে নতুন পারিবারিক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হন ফারহান।

পরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ফারহান। বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করছেন এই দম্পতি। একসময় মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাদের যোগাযোগ সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তারা একই ছাদের নিচে কাটাচ্ছেন দাম্পত্য জীবন।

দুই দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের জীবনযাপন, খাবার, পোশাক ও সাংস্কৃতিক অভ্যাসে রয়েছে কিছু পার্থক্য। তবে একে অপরের অভ্যাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংসার এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। পাকিস্তানে থাকার অভিজ্ঞতার পর এখন বাংলাদেশের পরিবেশে নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ফারহান ও লাবনী।

এই দম্পতি জানান, তাদের দুজনেরই ১০ বছরের ফ্যামিলি ভিসা রয়েছে। বাংলাদেশে বসবাসের পাশাপাশি নিজেদের কর্মজীবন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছেন তারা। পাকিস্তানি পোশাক, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক এনে অনলাইনে ব্যবসা করার চিন্তা রয়েছে তাদের। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসার মাধ্যমে আয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রেতাদের কাছে পাকিস্তানি পোশাক পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া লাবনী ও ফারহানের সম্পর্ক এখন বাস্তব জীবনের সংসার। দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই দম্পতির নতুন জীবনযাত্রা এখন কুষ্টিয়ায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...