
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত চন্দনা রানী শীল হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নিহত চন্দনার স্বামী শিমুল শীল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে দেওয়া এই জবানবন্দিতে তিনি আরও দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার তথ্য প্রকাশ করেন। ভালোবেসে বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় পারিবারিক সন্দেহের বশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে স্বামী শিমুল শীল জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নজরুলের যাতায়াতের সুবাদে তার স্ত্রী চন্দনা রানীর সঙ্গে নজরুলের একটি পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতে বিষয়টি নিয়ে চন্দনাকে জেরা করা হয় এবং সে সময় সেখানে নজরুলও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে চন্দনা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিলে শিমুল, নজরুল ও নজরুলের বন্ধু ইলিয়াস মিলে যৌথভাবে চন্দনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছন থেকে হাত বাঁধা অবস্থায় চন্দনা রানী শীলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত চন্দনা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের তেজেন্দ্র দাশের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শিমুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে পরিবার অভিযোগ করে আসছিল। ঘটনার আগের দিন নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়ি চলে গেলেও পরে স্বামী তাকে পুনরায় ডেকে নিয়ে আসেন এবং এর পরই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।