• শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

নাচগানে মুখর ঠাকুরগাঁও কারাম উৎসব: ওরাঁওদের মিলনমেলা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

একটি কারাম গাছের ডালকে ঘিরে নাচ, গান আর উৎসবের রঙে মুখর ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভালো ফসলের প্রত্যাশায় শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে বসে ওড়াঁও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কারাম উৎসব। রাত ৯টায় শুরু হয় উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ঢোল ও মাদলের তালে নারী পুরুষের সঙ্গে শিশু কিশোরদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলায়।

কারাম উৎসবকে ঘিরে দুই দিন আগে থেকেই সালন্দর ইউনিয়নের পাঁচপীরডাঙ্গা গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাকে নারী পুরুষ, হাতে ঢোল ও মাদল নিয়ে নাচ গান করতে করতে উৎসবে অংশ নেন তারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও ভিন্ন ধর্মের মানুষও ছুটে আসেন এ আয়োজন দেখতে। কারাম পূজার অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা হলো কারাম গাছের ডাল স্থাপন। এ উপলক্ষে ওরাঁও নারীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস পালন করেন। পরে নাচ গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালে কারাম গাছের ডাল সংগ্রহ করে পূজার বেদিতে স্থাপন করা হয়।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, বিপদ আপদ থেকে মুক্তি, ভালো ফসল এবং সুখ সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় প্রতিবছর এ পূজার আয়োজন করা হয়।

কারাম গাছের ডাল স্থাপনের পর শুরু হয় উৎসবের মূল আয়োজন। নারী পুরুষের সঙ্গে নাচ গানে যোগ দেন শিশু কিশোররাও। ঢোল ও মাদলের তালে তালে একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন পুরো গ্রামের মানুষ। এতে একদিকে যেমন নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা হয়, অন্যদিকে তৈরি হয় পারস্পরিক স¤প্রীতি ও মিলনের পরিবেশ।

শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন কারাম উৎসব দেখতে। ঐতিহ্যবাহী নাচ গান ও উৎসবের নানা আয়োজন উপভোগ করে মুগ্ধতার কথা জানান তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন প্রতিবছর যেন আরও বড় পরিসরে করা হয়।

উৎসবে অংশ নেওয়া অতিথিরাও ওড়াঁও স¤প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাদের জীবনমানের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা জানান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।

আয়োজকরা জানান, কারাম উৎসব মূলত তিন দিনের আয়োজন। ভাদ্র মাসের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে এ উৎসব পালন করা হয়। শুক্রবার রাতে মূল আনুষ্ঠানিকতার পর শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে কারাম গাছের ডাল নদীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

কারাম উৎসব তাদের কাছে শুধু পূজা নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আনন্দ ও স¤প্রীতির এক অনন্য প্রকাশ।

এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, জেলা বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার সম্রাট, সালন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম মাওলা চৌধুরী,জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, ওরাঁও সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, আগামী অর্থ বছরে মহাসড়ক থেকে এই উৎসব মঞ্চ পর্যন্ত পাকা সড়ক করে দেওয়া হবে। এখানকার ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর জন্য আমরা অতিরিক্ত বরাদ্দের ব্যবস্থা নেব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...