• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ বরিশালে মাটিকাটা কাটি নিয়ে বাকবিতন্ডা, বড় ছেলের হামলার শিকার মা-বাবা ও ছোট দুই ভাই বরিশালসহ ৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস শরীয়তপুরে কলেজের কনসার্টে ‘নৌকা’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান চুরির অভিযোগ তুলে মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ বাগেরহাটে ডাকাতির মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪ কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের শৌচাগারে গলায় ফাঁস দিয়ে হাজতির মৃত্যু সিলেটে মিছিলের প্রস্তুতিকালে আ. লীগের ১২ নেতাকর্মী আটক আপনাদের পয়সা না দিলে শ্রমিকদের ৩০ না ৪০ হাজার টাকা বেতন দিতে পারতাম ময়লা-আবর্জনায় ভরা খাল পরিস্কারের কাজে ইউএনও, উজিরপুরে খাল পরিস্কারে অনন্য দৃষ্টান্ত

কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ‘সার্জেন্ট মেজর ফিশ’

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন...

কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে আকর্ষণীয় সামুদ্রিক প্রজাতির সার্জেন্ট মেজর মাছ (Sergeant Major Fish)। রঙিন বর্ণ ও ভিন্নধর্মী গঠনের কারণে মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে বরফে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) মাছটি বন্দরে নিয়ে আসার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বাংলাদেশে এটি অঞ্চলভেদে পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত।

জানা গেছে, মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।

ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে উঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।’

মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।’

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সার্জেন্ট মেজর মাছ (Abudefduf spp) Pomacentridae পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশে এটি অঞ্চলভেদে পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত। মাছটির দেহ চ্যাপ্টা ও ডিম্বাকার, পিঠে হালকা হলুদাভ আভা এবং শরীরের দুই পাশে ৪–৫টি গাঢ় উল্লম্ব ডোরা থাকে, যা সহজেই এ মাছকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।’

তিনি আরও জানান, এ মাছ মূলত বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় পাথুরে এলাকা, প্রবাল প্রাচীর—বিশেষ করে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের আশপাশের অগভীর সামুদ্রিক পরিবেশে বাস করে। এটি সর্বভুক (Omnivorous) এবং শৈবাল, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম হলেও উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয়ভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া উজ্জ্বল রং ও আকর্ষণীয় ডোরাকাটা নকশার কারণে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায় এটি একটি জনপ্রিয় শোভাবর্ধনকারী মাছ।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘এ ধরনের সামুদ্রিক মাছ আমাদের উপকূলীয় জলসীমায় থাকলেও খুব কম ধরা পড়ে। জেলেদের জালে মাঝেমধ্যে এমন ব্যতিক্রমধর্মী প্রজাতির মাছ উঠে আসে। এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...