
নেত্রকোণার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংঘর্ষ, হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনায় আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ওমর শরীফ বাদী হয়ে গত ২৫ মে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন। মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর জয়নাল আবেদিনসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোণা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম রাজিবুল হাসান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর জয়নাল আবেদিন রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ মে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
মামলার ৩৩ আসামির মধ্যে ২৫ জন বুধবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের দাবি, মামলার আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। হাটের ইজারা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর আগে মামলাটি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছিল।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বধলার একটি মিথ্যা মামলায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমিরসহ ২৫ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আইনিভাবে মামলাটি মোকাবিলা করা হবে।’
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দণ্ডবিধির ধারায় করা একটি মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালতের জামিনে ছিলেন। বুধবার তারা আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।