বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি মার্কেটের শাটারের তালা ভেঙে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলফোন চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোর চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়ার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান।
এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজা এলাকা থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা চুরি যাওয়া সব কটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- চট্টগ্রাম শহরের আল আমিন (৩০), আক্কাস আলী (৩৫) ও হৃদয় (৩৪), নরসিংদীর ইমরান (৩০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন আরাফাত (৩৮), কুমিল্লার রবিউল ইসলাম (৩৩), আলা উদ্দিন (২৫) ও ইস্রাফিল রহমান (২৭)।
জানা গেছে, বগুড়ার ধুনট পৌরশহরের ইছামতী ডিজিটাল কমপ্লেক্স মার্কেটের প্রথম তলায় মাসুদ টেলিকম নামের একটি দোকানে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ভোরে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। দোকান মালিক মো. মাসুদ রানা আগের দিন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান। বুধবার সকাল সাতটার দিকে মার্কেটের নৈশপ্রহরী মো. সুলতান হোসেন ডিউটি শেষে বাড়ি যান। পরে তার একটি ভুলে ফেলে যাওয়া জিনিস নিতে সকাল সোয়া আটটার দিকে পুনরায় মার্কেটে এসে দেখতে পান, পিঠে ব্যাগ ঝোলানো ৮ থেকে ১০ জন লোক মার্কেট থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ভেতরে গিয়ে মাসুদ টেলিকমের শাটারের তালা ভাঙা ও খোলা দেখতে পান। খবর পেয়ে দোকান মালিক এসে দেখেন গ্যালারিতে সাজানো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন উধাও। এ ঘটনায় দোকান মালিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি চুরি মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘চুরির ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে নামে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের সহায়তায় জানা যায়, চোর চক্রটি ধুনট থেকে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে যায় এবং সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ওঠে। পুলিশের দলটি তাৎক্ষণিকভাবে বাসের পিছু নেয় এবং পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ও যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের সহায়তা চায়। এরপর বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাসটি যমুনা সেতু পশ্চিম টোলপ্লাজায় পৌঁছালে তল্লাশি চালিয়ে চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার ও চুরি হওয়া ৯৪টি ফোন উদ্ধার করা হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) যাচাই করে দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যান।’
জিজ্ঞাসাবাদ ও অধিকতর তথ্যের জন্য আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। উদ্ধার করা মুঠোফোনগুলো শনাক্তকরণ শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।