হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ এবং সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বরিশাল প্রেস ক্লাবে বরিশাল জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরিশাল বিভাগ হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাআজ বিন জসিম। এতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. লোকমান হোসেন। এ সময় বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগ হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. শফিকুল আলম উখবা, বরিশাল অঞ্চল হেযবুত তওহীদের সভাপতি রুহুল আমিন মৃধাসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। সমাবেশে হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনটির আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশ থেকে উৎখাতের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ছাড়া সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নারীদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের বিষয়ে দেওয়া সুনির্দিষ্ট শর্তগুলোর কোনোটিই যথাযথভাবে পালন করা হয়নি। পাশাপাশি ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চারবার সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এসব হামলায় সংগঠনটির দুজন সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বক্তারা বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে হেযবুত তওহীদের হাজার হাজার সদস্য এবং নোয়াখালীতে সংগঠনটির পরিচালিত স্কুল, হাসপাতাল, খামার, পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
তারা দাবি করেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন।
সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করে আসছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় শতাধিক মামলা হলেও গত ৩১ বছরে আদালতের রায়ে তাদের কোনো সদস্য দোষী সাব্যস্ত হননি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। তাই কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে হুমকি, ফতোয়া কিংবা সহিংসতার উসকানি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। বক্তারা হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগও করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনটির সদস্যদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা করা।
বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন এবং প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।