সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।
এর আগে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৭ আগস্ট এ মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯তমবারের মতো পেছানো হয়। নতুন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের তৎকালীন বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। হত্যাকাণ্ডের পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শুরু করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। চার দিন পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় হাই কোর্টের নির্দেশে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দীর্ঘদিন র্যাব তদন্ত করলেও মামলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর হাই কোর্ট র্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
হাই কোর্টের ওই নির্দেশনার পর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (পিবিআই) প্রধানকে টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে এই টাস্কফোর্সের অধীনেই মামলাটির তদন্ত চলছে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় টাস্কফোর্সকে কয়েক দফায় সময় দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ এপ্রিল হাই কোর্ট তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় দেয়।
মামলাটিতে আসামি হিসেবে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তানভীর রহমান খান।
শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিয়োগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিয়োগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।