সমবায় আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে অনন্য এক নজির গড়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ সমবায় ক্যাটাগরিতে ‘শ্রেষ্ঠ’ নির্বাচিত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘দি বরিশাল ইসলামিয়া আরবান সমবায় সমিতি লিমিটেড’।
সমিতির পক্ষে অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের সঙ্গে এই মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সমবায় পুরস্কার এবং সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়েদুল হক চাঁন।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত জমকালো ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিজ হাতে এই সম্মাননা স্মারক ও পদক তুলে দিয়েছেন।
শতবর্ষের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন:
ব্রিটিশ আমল থেকেই বরিশালের দূরদর্শী ও প্রথিতযশা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং খান বাহাদুর-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ঐতিহাসিক সমবায় প্রতিষ্ঠানটি।
জন্মলগ্ন থেকেই বরিশালের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে সমবায়ের সুতোয় গেঁথে রেখেছে এই সমিতি।
দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এটি আজ কেবল বরিশালই নয়, পুরো বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীণ ও আস্থার প্রতীক সমবায় সমিতিতে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটি যুগের পর যুগ সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সঞ্চয় সুরক্ষায় নিরলস ভূমিকা রেখে আসছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সমবায় খাতের সুদূরপ্রসারী ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং তৃণমূল মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সমবায়ের নীতি ও আদর্শকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বরিশালের এই ঐতিহাসিক সমবায় সমিতি যেভাবে সততা, স্বচ্ছতা এবং আস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা পুরো দেশের জন্যই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়েদুল হক চাঁন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "এই অর্জন শুধু আমাদের সমিতির পরিচালনা পর্ষদ বা সদস্যদের একার নয়, এটি বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভালোবাসার ফসল।
১৯১০ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ যেভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আগলে রেখেছেন, তারই স্বীকৃতি আজকের এই জাতীয় সম্মান।