লক্ষ্মীরপুরের রামগঞ্জে অসুস্থ মাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় চোখে বাঁশ ঢুকে গুরুতর আহত হওয়া চা দোকানি মো. হেল্লাল মারা গেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মো. হেল্লাল উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন জমদ্দার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি আথাকরা বাজারের পরিচিত চা দোকানি ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেল্লালের মা স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে আথাকরা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইজদীর উদ্দেশ্যে রওনা হন হেল্লাল ও তার পরিবারের সদস্যরা।
পথে মুন্সী রাস্তার আগে সড়কের পাশে বাঁশবোঝাই একটি গাড়ি থেকে ছিটকে আসা বাঁশ হেল্লালের চোখে ঢুকে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চোখে বাঁশের অংশ বিদ্ধ অবস্থায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখে ঢুকে থাকা বাঁশের অংশ বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় হেল্লালের মা, বোন ও মেজো ভাবিসহ একই পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হন। তারা মাইজদী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। হেল্লালের মৃত্যুর খবরে স্বজন, প্রতিবেশী ও আথাকরা বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, হেল্লাল আথাকরা বাজারের একজন পরিচিত ও ভালো মানুষ ছিলেন। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হবেন, তা কেউ কল্পনাও করেননি। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেলেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুর্ঘটনায় আহত চা দোকানি হেল্লাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় বিস্তারিত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় কার, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।