বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুরের চাঁপাতলা গ্রামে বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুট হওয়া নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৫ ও ৬ নভেম্বর) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা গ্রামের শেখ আতিয়ার রহমানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী একদল ডাকাত ঘরের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রীকে বেঁধে ফেলে। পরে স্টিলের আলমারি ভেঙে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মোট মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় আতিয়ার রহমানের ছেলে শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রথমে বুধবার নড়াইলের লোহাগড়া থানা এলাকা থেকে হাসিব শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে অন্যদের পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, ঢাকার দক্ষিণখানে মূলহোতা হৃদয়ের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত নগদ ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। হৃদয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির অভিযোগে নয়টি মামলা রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের ক্রেতা আব্দুর রশিদকেও গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।