বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম আফরোজের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার বেলা ১২টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল এই হামলা চালায়।
আফরোজকে পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাখাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আহত আফরোজের শরীরে রক্তাক্ত জখম রয়েছে।
এদিকে আহত আফরোজের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে পাথরঘাটা শহরের গোল চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। এ মানববন্ধন শেষে দুপুর ১২টার দিকে আফরোজের ওপর হামলা হয়।
আহত আফরোজ জানান, পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনের সোর্স ইশা ও ইউনুস হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী তার ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোস্টগার্ডের সোর্স মো. ইশা বিভিন্ন সময় টাকাওয়ালা নিরীহ লোকজনদের মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এর বিষয়ে বিভিন্ন সময় তিনি (আফরোজ) প্রতিবাদ করলে তার ওপরে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্ত হামলাকারীদের মধ্যে ইউনুস এবং এনামুল হক জানান, সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে আজ শনিবার সকাল ১০টার সময় সদর ইউনিয়নের লোকজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। আমরা সেখানে বক্তব্য দিয়েছি। এরপর সবাই বাড়ি চলে গেছে। আফরোজকে কে বা কারা মেরেছে এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন সুমন মোল্লা জানান, শনিবার বেলা ১০টার সময় পাথরঘাটার গোল চত্বরে আফরোজের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সদর ইউনিয়নের লোকজনে। এ সময় আফরোজের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন মানববন্ধনে ব্যাপক অভিযোগ আনেন।
তিনি বলেন, আফরোজ বরগুনা দুই আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির নাম ভাঙিয়ে নিয়মিত চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মামলাবাজি করে আসছেন। এ কারণে স্থানীয় কিছু লোক তার ওপর ক্ষিপ্ত রয়েছে। এসব কারণে হামলা হতে পারে।
পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, ঘটনার পরপরই হাসপাতালে থানার পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।