পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। ইউএনও ও ওসির উপস্থিতিতেই যুবদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে মিছিল করার একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় দুমকি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বাউফল-লেবুখালী আঞ্চলিক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এতে উপজেলাজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
যুবদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শুক্রবার বিকাল ৪টা থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে আনন্দ মিছিল দুমকি উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তরে দায়িত্বে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দুমকি উপজেলা যুবদলের আংশিক কমিটিতে জাকির আলম মিলনকে সভাপতি ও জাহিদুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আরও চারজনকে বিভিন্ন পদ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন ওই কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
যুবদলের সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করে বলেন, যেখানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান অবস্থিত সেরকম একটি উপজেলায় যুবদলের কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দুজন ব্যবসায়ীকে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে থাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে ব্যবসায়ীদের ধরে এনে যদি যুবদলের নেতা বানানো হয়, তাহলে ত্যাগীদের কী হবে?
উপজেলা যুবদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, জাকির আলম মিলন নামে একজন ব্যবসায়ীকে সভাপতি পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি যুবদল করলেও ব্যবসার কারণে ১২ মাসই ঢাকায় অবস্থান করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের ঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রুবেল বলেন, তার বাবা মৃত ইউনুচ আলী হাওলাদার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সালে মৃত্যুর আগপর্যন্ত দুমকি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনিও বাবার সঙ্গে শৈশব থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে তৃণমূলে বিএনপির রাজনীতি করেছেন। মূলত পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটির সভাপতি জাকির আলম মিলন বলেন, ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করতে পারবেন না বলে দলে কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া আমি সদ্য সাবেক কমিটির ৫নং যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলাম। যারা আজ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ছড়াচ্ছেন, বিগত দিনগুলোতে তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতির মাঠে ছিলাম। এখন তারা যদি শুধু নিজেদেরই নেতা বা কর্মী মনে করেন, তাহলে আমার কী করার আছে?
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুমকি থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।