প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৭, ২০২৬, ২:৩৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২২, ২০২৬, ৩:৪১ পি.এম
দেখা হলো না নবজাতক সন্তানের মুখ, জুয়াড়িদের হামলায় আহত সেই শিক্ষকের মৃত্যু
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে মাদক কারবার ও অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করে হামলার শিকার কলেজশিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ওই হাসপাতালের আইসিইউতে গত ২০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থেকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে তার মৃত্যু হয়।
আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর। গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন।
এদিকে গত ৬ আগস্ট আরিফুলের ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।
সমাজকে আলোর মুখ দেখাতে গিয়ে শিক্ষক আরিফুল নিজের নবজাতক সন্তানের মুখটিও দেখতে পারেননি। তাঁর পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
আদিতমারীতে ওই শিক্ষকের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধরা সন্দেহভাজন অন্তত পাঁচ হামলাকারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও দুজনের বাড়ি ভাঙচুর করে। মধ্যরাতে পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মামলার এজাহার, পরিবার ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর আরিফুল ইসলাম সীমান্তবর্তী নিজ গ্রাম গন্ধমরুয়ায় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়াচক্রের সদস্যদের এসব কাজ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। পরে তাদের সতর্কও করেন তিনি। বিষয়টি সহজভাবে না নিয়ে অপরাধীরা ওই শিক্ষককে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এরই অংশ হিসাবে গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা স্থানীয় রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চক্রটি আরিফুলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে প্রথমে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজধানীতে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় গত ২ আগস্ট আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদি হয়ে আদিতমারী থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব ঘটনাস্থল থেকে মধ্যরাতে জানান, ফায়ারসার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবি বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
Copyright © 2026 Boishakhi Bangla -বৈশাখী বাংলা. All rights reserved.