দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার মধ্যেই নেপালে ফিরেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর ৮০ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক কাঠমান্ডুতে ফেরেন।
তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে আসছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের।
চিকিৎসার জন্য গত ফেব্রুয়ারিতে নেপাল ছাড়েন দেউবা। এরপর প্রায় ছয় মাস দেশের বাইরে অবস্থান করেন তিনি। পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেউবা তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর দল নেপালি কংগ্রেসের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ বিপুল জয় পাওয়ার এক মাস পর দেউবা দম্পতির বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
বালেন্দ্র শাহ ক্ষমতায় আসার পর দেশটির প্রভাবশালী ও দীর্ঘদিনের রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের আন্দোলন দমনে সহিংসতার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও গত মার্চে স্বল্প সময়ের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে। পরে তা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দিলে সরকারের পতন ঘটে। এ সময় দেউবার বাসভবনেও আগুন দেওয়া হয় এবং দেউবা ও তার স্ত্রীকে হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দেউবার বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ভিডিওও তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে তদন্ত কমিশনের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে দেউবা এসব ভিডিওকে ভুয়া ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। এর পেছনে কারা জড়িত, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। তার সম্পত্তি থেকে কথিত অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিশন।
দেউবার দেশে ফেরার পর এখন তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করা হবে কি না, সে বিষয়টিই নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তার দলীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণও দেশটির রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স