নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ১৯৯৩ সালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে একই বছর তিনি গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির এক মহাসমাবেশ।
বক্তব্যের শুরুতেই নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরে বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘৩১ বছর আগে আমার জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করে এই আন্দোলন শুরু করেছিলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্যোগ এখন দেশের লাখো মানুষের প্রত্যাশা ও অধিকারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা কোনো একক ব্যক্তি বা একটি সংগঠনের দায়িত্ব নয়। সরকার, প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। মানুষের জীবন রক্ষার এই লড়াইয়ে কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়, বরং সবাই একই লক্ষ্য অর্জনের সহযোদ্ধা।’বর্তমানে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মাঝে দীর্ঘ একবছরের বেশি সময় লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি চিকিৎসা বিরতিতে দেশে ফেরেন তিনি।
মহাসামবেশে নিজের শারীরিক অবস্থার কথাও তুলে ধরেন একসময়ের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। অসুস্থতার কারণে আগের মতো সক্রিয় থাকতে না পারার কথা জানিয়ে মহান আল্লাহর কাছে সুস্থতা কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। আবেগঘন বক্তব্যে উপস্থিত সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে যাচ্ছি, আমি না থাকলেও আপনারা এই দাবিকে বাঁচিয়ে রাখবেন এবং বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।’